?

Log in

Equitably-Guileless
Random Thoughts

shabsslg
Date: 2016-11-25 09:13
Subject: সারিসংগ্রাম
Security: Public
Mood:cynicalcynical

আজ ২৪ তারিখ। পুরোনো নোট নগদে পরিবর্তন করার আজই শেষ দিন।  গত এক পক্ষকাল ধরে ভারতবাসী তুমুল নাকাল হচ্ছেন এই নোটবন্দী খেলায়। ব্যাঙ্ক, পোস্টঅফিস, এটিএম সব কিছুর সামনেই মাইলটাক লম্বা সারিবদ্ধ মানুষ প্রহর গুনেছেন কবে তাঁর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে। তবে নাকাল হলেও অধিকাংশই 'অখুশী' নন। কিছু 'খ্যাল্কাটা' বাসী বা সেখানে বেড়ে ওঠা মানুষ বাদ দিলে। আর সংবাদমাধ্যেমের প্রেশ্যাদের কথা এখানে ধরছি না। ২৪ ঘন্টার সংবাদ প্রণালী যদি সরকারের কাজে খুঁত না ধরে তাহলে খাবে কি? টি আর পি বলেও তো একটা বস্তু রয়েছে - প্রতিযোগিতার এই আনন্দে সাস বহূর কাছে বেজার হলে চলবে কেনো??

তবে আনন্দের কোনো কারণ-ই নেই। আজ রাত ১২ টার পর থেকে পেট্রোল পাম্পে পুরোনো নোটের পালা শেষ হবে। সাঙ্গ হবে ট্রাক চলাচল। ভারতবাসীর পরীক্ষা বোধ হয় আজ থেকেই শুরু হল। তবে তার আগেও নোংরা খেলা হাসপাতাল গুলিতে দেখা গেছে। যে সকল হাসপাতাল আগে নগদে ছাড়া কথাই বলত না তারাও এখন পেটিএম দেখাচ্ছে, পুরোনো নগদ ফিরিয়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ আগাম নগদ চেয়ে মরণাপন্ন রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে। পুরো যাচ্ছেতাই অবস্থা।

তবে আসল  কথা পরীক্ষা শুরু হবার আগেই যেমন নকল পরীক্ষার্থী ঘামতে শুরু করে কিংবা টুপি চক্কোত্তি প্রেরিত ভুয়ো ভোটার যেমন ভোট কেন্দ্রে যাবার আগে কপালে হাত ঠেকায় সেরকম কিছু উচ্চবিত্ত বাম মনস্ক পরিবার থেকে  (যার সব থেকে বড় উদাহরণ এখন কালীঘাটে দেখা যায় - বলাই বাহুল্য নবম বামফ্রন্ট সরকার চলছে) এই সিদ্ধান্তের তুমুল বিরোধীতা করা হয়ে চলেছে। আর এই বিরোধীতা সমস্তটাই হচ্ছে গরীবের অসুবিধার কথা ভেবে, চাষীদের অসুবধার কথা ভেবে, কাজের মাসীদের অসুবিধার কথা ভেবে; এমনকি মধ্যবিত্ত ঘরের লুকোনো ধন লক্ষ্মীশ্রী-র কি হবে তা নিয়ে ধনাঢ্য পরিবাবের বাবু বিবিরা যারপরনাই চিন্তিত।  প্রবাদে  যাকে বলে যার বিয়ে তার খোঁজ নেই এদিকে সারা পাড়ার ঘুম নেই। এরকম পরশ্রী-র প্রতি সহানূভূতিশীল হতে আমি উচ্চতর মধ্যবিত্ত (যে পরিবারে এক বা একাধিক বিলেত ফেরত ডাক্তার,অধ্যাপক বা আইটি কুলি ইত্যাদি রয়েছে) পশ্চিম বাঙালী কে এই জনমে খুব কম-ই দেখেছি - কাজের মাসী ও তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি পশ্চিম বাঙালী-র তাচ্ছিল্য উল্লেখযোগ্য ও সর্বজনবিদিত। লক্ষণীয়, গত একপক্ষকালে যে ২১ সহস্র কোটি টাকা সারা ভারতে জনধন খাতায় জমা পড়েছে তার বেশিরভাগ-ই হলো এই পশ্চিম বাংলায়।

এবার আসি নিজের কথায় বা নিজেদের কথায়। ফেসবুকে অনেক বন্ধুই আমাকে তাঁদের নিজেদের অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। কোনও ভণিতা না করেই - কারো মাছ ভাত জুটছে না কিংবা কেউ বা বসে কলা খাচ্ছেন। অন্য কিছুর জোগাড়যন্ত্র না করতে পেরে। এই অসুবিধা গুলি যে হবে তা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিলক্ষণ জানতেন - কারণ গোপনে এতো বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে তার রূপায়ণে বেশ কিছু ফাঁক ফোকর থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এতদসত্ত্বেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন - তা কি রাজনৈতিক হঠকারীতা? বিশেষতঃ যখন এর অর্থনৈতিক সাফল্য প্রশ্নবিদ্ধ আর সফলতা এলেও তা সময় সাপেক্ষ।  আমার মনে হয় তিনি এখানে ভারতবাসীদের এক অদ্ভূত মানসিকতার সুযোগ নিয়েছেন। আমার অসুবিধা হচ্ছে তো কি বড়লোকেদের তো অনেক বেশী অসুবিধা হচ্ছে । এই অসূয়া প্রসূত আনন্দ আমাদের উদ্বেল করে রেখেছে আর  আমরা বগল বাজিয়ে উদ্বাহু হয়ে এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করে যাচ্ছি। কথায় আছে আমার পেন্টুল হলদে তো কি রবীন্দ্রনাথ নোবেল।

এবার উচ্চবর্গের আর নিম্নবর্গের কথা বাদ দিলে যা থাকে তা আমি ও আমরা -  ইতিমধ্য মধ্যবিত্তের জীবনে এই তুঘলকি ফরমান কি কি সমস্যা তৈরি করেছে তার একটা জরিপ করা দরকার। গত ১২ তারিখ মানে ঠিক ১২ দিন আগে আমি ব্যাঙ্কে দাঁড়িয়েছিলুম সস্ত্রীক। দু ঘন্টা দাঁড়িয়ে আমি আমার গৃহপালিত কালোধন  (বানান খৈয়াল কইর‍্যা) বাঙ্কে চালান করে দিয়ে এসেছি। পরিচয় পত্র ও তার স্ব-প্রত্যয়িত অনুলিপি নিয়েও যেতে হয়েছে। কিন্তু সেদিন পাসবই হালনাগাদ করা যায় নি। পরের শনিবার অর্থাৎ ১৯ তারিখে সেই কর্মটিও আবার লাইন দিয়ে সম্পাদন করেছি। এর একদিন আগে অর্থাৎ ১৮ তারিখ সামান্য কিছু কালোধন অন্য একটি ব্যাঙ্কে জমা করেছিলুম - তবে প্রবীণ নাগরিক দিবস থাকায় সেদিন ভিড় ছিল না। নোটবন্দীর পরে প্রথম শনিবার, ১২ তারিখ আমি এটিএ থেকে টাকাও তুলেছি। বাড়ী থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে ১৫ / ১৬ টি এটিএম যন্ত্রে বিফল হয়ে শেষে সাফল্য খুঁজে পাই।  এর ফলে আমার পৌনে দু ঘন্টার মতো সময়  ব্যয় হয়েছিল।

আমার কথা আমি বলে দিলুম। এখন পাজামার বুক পকেটে  রয়েছে ৩৫ টি টঙ্কা; কাল আবার লাইন দিতে হবে। কিন্তু কুছ পরোয়া নেহি - আমার সম্বৎসর ধরে প্রাপ্য নৈমিত্তিক অবকাশের শেষ ৫ টি আমি এই হপ্তায় খরচা করে দিলুম।  নোট বড় বালাই। এবার আমি আপনার থেকে শুনতে চাই আপনার কি কি অসুবিধা হয়েছে। ইয়ে মানে ঠোঙ্গা ভরা বাজাম ভাজা খাওয়া বা নোট শাক দিয়ে ভাত খাওয়া কৃচ্ছসাধন হতে পারে কিন্তু কষ্ট হিসেবে কল্কে পাবে না - উপরে আমি যেগুলির সম্মুখীন হয়েছি তার সামনে। আপনি লাইনে আসুন তবেই না কষ্ট - আপনি লাইনে না আসলে আবাপ তারা  আনন্দ ভীড় খুঁজে পাবে না - আপনার কষ্টের কথা ফলাও করে প্রচার করতে পারবে না। তার বদলে, নিরাপদ দূরত্ব থেকে, লাইনের দৈর্ঘ্যপ্রস্থ বিচার, আর যাই হোক আপনি মানুষের  সহানুভূতি পাবেন না। গোদা বাংলায় যাকে সিম্প্যাথি বলে।  কি বললেন আপনার সময় নেই। আচ্ছা বেশ মেনে নিলুম - কিন্তু তাইলে আপনার কোন সমস্যাও নেই। পেটে খিদে নেই। বাড়ীতে ওষুধের অভাব নেই। পকেটে টাকা থাকা না থাকা তখন ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না।

এত বিপদেও যদি আপনি লাইনে না এসে থাকেন তাইলে ধরেই নেওয়া যায় আপনি জন্ম ইস্তক বিদ্বৎজন । আপনি কোনদিন রেশনের গমের লাইনে বা কেরোসিনের লাইনে আসেন নি। হাওড়া ইস্টিশনে আপনি কখনো  ট্যাক্সির জন্য লাইন দেন-নি। অটোর লাইনে দাঁড়ান-নি। আপনার পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ শান্তির জন্য খাদ্য প্রকল্পে (food for peace) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে  আমদানীকৃত, বরাহের উদবৃত্ত (PL480) গমের জন্য PDS লাইনে দাঁড়ায় নি। আপনি কোনকালেই মেহনতী ছিলেন না। তাই তার কথাও নেই। আর যদি কখনও এসব করে থাকেন আর এখন এগুলি করতে প্রবল অনীহা বোধ করছেন, তাইলে কোথাও আপনার একটা দশা পরিবর্তন ঘটেছে। আপনি তার সঙ্কট সূচক বের করার চেষ্টা করে দেখুন।


 হাওড়া জেলার একটি স্বনামধন্য আয়ুর্বেদিক ভেষজ মহাবিদ্যালয় থেকে আমি সাম্মানিক পদার্থবিদ্যায় স্নাতক  হই।  আমার বাড়ী শিলিগুড়িতে হবার দরুন আমাকে স্নাতক শ্রেণীর পাঠ নেবার জন্য ট্রেনে করে হাওড়া আসতে হত বাড়ী থেকে। ট্রেনের টিকিট ও আমায় লাইন দিয়েই কাটতে হত, ক্ষেত্রবিশেষে  মাস দুই আগে থেকে। কিন্তু তার থেকেও  বড় কথা  হল যে আমাকে শিক্ষার জন্যেও লাইনে লাইনে দাঁড়াতে হয়ছে। দূরে থাকার ফলে আমি কলকাতার বারোটি কলেজের ফর্ম তুলে জমা দিয়েছিলুম। উত্তর বঙ্গকে একেবারে বাদ দি-ই নি - শিলিগুড়ি কলেজ আর আনন্দচন্দ্র কলেজের ফর্ম  তুলে জমা করেছিলুম। তবে যেহেতু কলকাতায় লেখাপড়া করার ইচ্ছে ছিল তাই ওটাকেই পাখির চোখ ঠাউরেছিলুম।  আমার ব্যাপ্তি কতদূর বোঝা যাবে যদি আমি বলি আমি হুগলী মহসিন থেকে নিয়ে নরেন্দ্রপুর অবধি আবেদন পত্র জমা করেছি অন্যদিকে বেলুড় থেকে নিয়ে বিধাননগর সরকারী কলেজ অবধি।


কলকাতা আসার পর প্রথম ১৫ দিন তোলা আর জমা করায় কেটে গেছে। বেশীরভাগ কলেজেই দু-দিন করে  দিতে হয়েছে - একদিন জমা করার লাইনে অন্যদিন ফর্ম তোলার জন্য। আর  রাকৃমিবিম / রাকৃমিআম ও আশুতোষ প্রভৃতি গুটিকয়েক কলেজ ছাড়া বেশীর ভাগ জায়গায় নিদেনপক্ষে তিন ঘন্টা করে এক একবারে লাইন দিতে হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে  ও প্রেসিডেন্সী মহাবিদ্যালয়ে (তখনও তাই ছিল) স্বাভাবিক ভাবেই এক একবারে ৪ ঘন্টা বা ততোধিক সময়ে লাইনে দাঁড়াতে  হয়েছে। বলাই বাহুল্য,  প্রতিথযশা পশ্চিমবাঙালীদের অনেকেই এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী। বিশেষতঃ বাংলা  সংবাদ জগতের (নিউজপ্রিন্ট আর বৈদ্যুতিন উভয় মাধ্যমে যুগপৎ ভাবে) হোমরাচোমরা-রা সব এইদুটি ঘাটের জল খেয়েই কাজে বসেছেন। আশা করা যায় এখানকার প্রাক্তনী হবার আগে অবধি তাঁরা মেহনতী মানুষ ছিলেন - সেঙ্কো গোল্ডের মতো গুটিকয়েক  অন্য জন্মসিদ্ধ বিদ্বৎজনের মতো - ঘরে বসেই মহলনাবীশ কোটায় ভর্তি হন-নি। তাই বলা যেতেই পারে বাঙালী বিশেষতঃ শিক্ষিত বাঙালী (সিরম সিখ্যার কথা কইতে লইসি - আপ্নে মনীন্দ্র চন্দ্র বা ভৈরব গাঙ্গুলি মহাবিদ্যালয়ে এরকম সিখ্যা পাবেন নি কো ) লাইনে দাঁড়িয়েই শিক্ষিত হয়েছে বা আরো বিশদ  করে বললে লাইনে দাঁড়ানোর শিক্ষা পেয়েছে।

তা - এই লাইনের মালগুলি এখন এতো বেগড়বাঁই করছে কেনো?  জানতে মুঞ্চায়।।

পুনশ্চঃ  কি বললেন? আমি অসহিষ্ণু / অসংবেদনশীল?? আপনি দুই দিন পেটে কিল মেরে বসে আছেন - আজ্ঞে এরকম আমার অনেক হয়েছে - পরিস্থিতির চাপে সেই ছোটবেলা থেকে- বিভিন্ন দৈবদুর্বিপাকে - সেগুলোর জন্য নোট বন্দী দায়ী ছিল না। বেশী সময় নেব না আর উদাহরণ দিয়ে; কিন্তু বলে রাখি, ২০০০ সালের বন্যায় ট্রেনে করে বাড়ী গিয়েছিলুম - দুর্গাপুজার সময়ে -  সময়ে লেগেছিল ৩৯ ঘন্টা তার মধ্যে ৩৫ ঘন্টা আমার নির্জলা কেটেছিল। আমি ভাগ্যবান অনেকেই ৪৫ বা ৫০ ঘন্টা ট্রেনে কাটিয়েছে "সেইসময়"।  নিজের কথায় ফিরে আসি - চারিদিকে থই থই জল - মাঝে মাঝে গরু মহিষ ইত্যাদির মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে - এর ই মাঝে কামরায় বসে গান গাইছি " তৃষ্ণা - ওগো তৃষ্ণা - আমার বক্ষ জুড়ে"। আপনারা তো তুলনামূলক সাহিত্যবীর - ট্যান্টালাসের নাম জানা আছে কি??

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2016-08-23 00:32
Subject: কুমাওনী সুইজারল্যান্ড ভ্রমণঃ প্রথম খন্ড
Security: Public
Mood:cheerfulcheerful
Tags:আলমোড়া, উত্তরাখন্ড, কাঠগোদাম, কুমায়ুন, কৌশানী

মে মাসের শেষাশেষি হঠাৎ আমাদের মনে হল অনেক হয়েছে। লু নাম্নী মরুভূমির খরবায়ু প্রবাহ জীবন কে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।  সেই সঙ্গিন অবস্থা থেকে রেহাই পেতেই আমরা কয়েকদিনের জন্য কোথাও একটা ঘুরে আসার পরিকল্পনা করলুম। প্রখর দাবদাহে উত্তরভারতের জনজীবন যখন শুকিয়ে কিসমিস হয়ে যায়, তখন তাকে ফের পুষ্ট ও সুমিষ্ট আঙুর ফলে পরিণত করার জন্য আগমন হয় মৌসুমি বায়ুর। যবন ভাষায় মনসুন।  এমনিতে ভারতে মৌসুমি গন্তব্যের (monsoon destination) অভাব নেই।  এমনকি চিরহরিৎ (মতান্তরে, চীররহিত) মৌসুমী গন্তব্যও রয়েছে। মন্দারমণি / দিঘা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যেকোনো সময়ে গেলেই মৌসুমী বায়ুসম পরশে আপনার শরিল ও মন স্নিগ্ধতর হইবেক, বৈকি। 

তবে কিনা আমরা মরশুমী মৌসুমি গন্তব্য দেখছিলুম। লক্ষ্য ছিল হিমালয়। দক্ষিণ ভারতেও অনেক জায়গা আছে বটেক কিন্তু আপাততঃ তা আমাদের বিবেচনার মধ্যে আসে নি। হিমালয়ের মধ্যেও দুটো রাজ্যই হাতের কাছে ছিলঃ হিমাচল আর উত্তরাখণ্ড। ট্রেনের টিকিট খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল শেষেরটির-ই পাওয়া যাচ্ছে। তাই তখন সেটাই স্যব্যস্ত করা হল। অবশ্য টিকিট খুঁজতে গেলে লাগে দিনক্ষণ - অর্থাৎ ছুটিছাটা। সেটা আগেই ঠিক করে রেখেছিলুম। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে দুইটি ছুটি রয়েছে - ঐচ্ছিক (restricted) ছুটি জামাত-উল-বিদা ও বাধ্যতামূলক ছুটি ঈদ-উল-ফিতর (উৎসব যার যার ছুটি তো সবার)! সঙ্গে দুটি নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে নিলেই কেল্লা ফতে কেস - শনি ও রবি ধরে পুরো সাত দিনের ঘোরাঘুরি। যে কোন কারণেই হোক আমার মাথায় ছিল না যে দেহরাদুন ও হরিদ্বার যাবার ট্রেনও এখান থেকে রয়েছে - তাহলে গাড়োয়াল দর্শন করা যেত। আমি পুরনো চেনা নাম কাঠগোদামের টিকিট কেটে নিলুম। ট্রেনের নাম রানিখেত এক্সপ্রেস ও বেশ চেনা ঠেকল - পুরোনো কিছু কুমাওনী কথা মনেও পড়ে গেল। 

এবার কথা হল কুমায়ুনেও যাবার জায়গার অভাব নেই। নৈনিতাল একটি অব্যর্থ ভ্রমণস্থান। কিন্তু তা দিয়ে তো আর সাতদিন কাটানো চলে না। তাই প্রথম তিনটে দিন আমরা কৌশানী তে থাকব স্থির করলুম। আর পরের তিনদিন নৈনিতালে। যখন যেখানে থাকব সেখান থেকে আসেপাশে ঘোরাঘুরি পরিকল্পনাও ছকে রেখে দিলুম।

জুলাই মাস কুমায়ুন ভ্রমণের আদর্শ সময় নয়। ভূস্খলন ও তজ্জনিত সড়ক অবরোধ ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রবলতর হয়ে ওঠে এই সময়ে।  এই সময়ে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি পাহাড়ে খুব স্বাভাবিক সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে জোঁকের উৎপাত। আর বর্ষাকালে বাঙালির পৈটিক গোলযোগ তো লেগেই থাকে। ফলে বেশ আঁটঘাট বেঁধেই যে রওয়ানা দিতে হবে, তা বেশ বুঝতে পারছিলুম। বিভিন্ন জালকস্থানে (ওয়েবসাইট) খোঁজাখুঁজি করে যা পেলুম তা মোটের ওপরে এইরকম।


  1. প্রাথমিক চিকিৎসা থলি

  2. লবণ ডিবি (জোঁকের মুখে দেবার জন্য)

  3. ছুরি (জোঁক কেটে ফেলে দেবার জন্য)

  4. কাঁচি

  5. বৈদ্যুতিক রঙমশাল

  6. কাগুজে সাবান

  7. দ্রুত আসঞ্জক (ফেভিকুইক)

  8. ছাতা

  9. বর্ষাতি

  10. উষ্ণ নীর থলিকা

ইত্যাদি নিয়ে যেতে হবে সঙ্গে করে। দুয়েকটি জিনিষ ঘরেই ছিল। বাকীগুলো কিনে ভ্রমণ তোরঙ্গে পুরে রেখে দিলুম। দেখতে দেখতে পাঁচ হপ্তা কেটে গেল। উদ্দিষ্ট দিনে আমরা রানীখেত এক্সপ্রেসে চড়ে বসলুম। এই ট্রেনে কোন প্যান্ট্রি রেক নেই। তাই আগে থেকে রেল রাইডার মারফৎ নিশিভোজনের বন্দোবস্ত করে রেখেছিলুম সঙ্গে তিন গন্ডা জলের বোতল ও ফরমানো ছিল। সেগুলি যথাক্রমে রেওয়াড়ী আর দৌসা জংশনে আমাদের হস্তগত হয়।

Rewari

Dausa

বাকি পথ মোটামুটি নির্বিঘ্নেই অতিক্রম করে পরের দিন ভোরবেলা পঞ্চম ঘটিকায় আমরা কাঠের গোদামে অবতীর্ণ হই।  অবতরণ ইস্তক একটি লোক আমাদের পিছু নেয় - এবং কোথায় যাব এবং গাড়ী নেব কিনা  জিজ্ঞেস করতে থাকে। আমি সেসবে পাত্তা না দিয়ে নিশ্চল তৈলশকট স্থানের দিকে অগ্রসর হই। সেই অবধি আসতেই, জনা পনেরোর একটি দল আমাদের ঘিরে নেয় এবং আগের প্রশ্নগুলি-ই করতে থাকে। আমি উত্তর দিতে দোনোমনা করতে থাকায় তারা আমায় এই বলে আশ্বস্ত করে যে তারা প্রত্যেকেই তৈল শকটের চালক (তথা কেউ কেউ চালক ও মালিক উভয় ভূমিকায়), চাবিসহ; কেউই এখানে কারো দালাল নহে - ঠিক যেমনটি নূতন জলপাইগুড়ি জংশনে দেখা যায়। আমি গন্তব্যস্থল প্রকাশ করা মাত্র সেই দলের মধ্যে তিনজন বাদে বাকী সবাই সরে যায় - তারা সবাই নৈনিতালের খরিদ্দার খুঁজছে আরকি। অবশিষ্ট তিন জনের মধ্যে কেউ দক্ষিণ কোরীয় ক্রিটা বা জাপানী ভিটারা ব্রিজা (সহীহ আরবি তেল সহযোগে) চালনা করে থাকেন। মূল্য ২৫০০ থেকে ২৮০০ রুপিয়া। তবে আমি আমার কাছে প্রথম আসা ভারতীয় অল্টো (কে-১০) চালকের প্রস্তাবেই সম্মতি দি-ই। কৌশানী পৌঁছানো ২২০০ টঙ্কা মাত্র।

প্রথমে একটু চিন্তিত ছিলুম। চালক কে বার বার জিজ্ঞেস করছিলুম যে এই গাড়ী পাহাড়ে চলবে কিনা। একবার একটি মারুতির ওমনি ভ্যানের, মানেভঞ্জন যাবার পথে, মিরিকের কাছে, ইঞ্জিনে হাঁপানি ধরেছিল। ঢাল বেয়ে পিছনে গড়িয়ে যাবার উপক্রম অবধি হয়েছিল। অল্টো চালক বারেবারে আমায় আশ্বস্ত করছিল বটে কিন্তু একটু সংশয় ছিল না মনে তা নয়। পরে অবশ্য সেই সন্দেহ দূর হয়ে যায়। আরেকটি সমস্যা যেটা ছোট গাড়ীতে হয় তা হল পিঠ ব্যাথা - তবে, এই ঘোরতর বর্ষাতেও, রাস্তা ঘাট ভালো হবার দরুণ (দার্জিলিং এর সঙ্গে তুলনা করে নিজের মন  ও আনুষঙ্গিক জিনিষপত্র কে কষ্ট দেবেন না), সেটাও খুব কাহিল করতে পারেনি আমাদের।  আর ছোট গাড়ী বর্ষাকালে কত জায়গায় যে বাঁচিয়ে দিয়েছে, সে খোদায় মালুম। অনেক জায়গায় রাস্তা ধ্বস নেমে অর্ধেক হয়ে গেছে সুমো বোলেরো দাঁড়িয়ে গেছে আমরা পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেছি, শকটীয় বেড় কম হবার দরুণ। আর অন্তত পক্ষে চার বা পাঁচ বার আমরা উল্টে পড়ে থাকা গাছের তলা দিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি, গাড়ীর উচ্চতা কম ছিল বলে। 

এইখানে ছোটগাড়ীর বড়মনের চালক সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না করা নিতান্ত অসঙ্গত হবে। ড্রাইভারের নাম - ববি গোস্বামীঃ  একজন গর্বিত ব্রাহ্মণ । ভয়ে নিজের পিতৃপরিচয় দিতে পারিনি। যদি গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। এছাড়া সংখ্যালঘুদের প্রতি একটু অসহিষ্ণু বলেও প্রতীত হল। তবে এদুটোই উত্তর ভারতের সাধারণ্যের লেশ, খুব একটা অবাক করার মতো কিছু নয়। কিন্তু অন্য অনেক দিক থেকে লোকটি বেশ ভালো। তৃতীয় শ্রেণী  অবধি অতিক্রম করা বেশীরভাগ লোকের তুলনায়। তার বেশী এগোনো লোকেদের ক্ষেত্রেও মাঝে সাঝে একথা খেটে যাবে বইকি। ববি হলেও হেকিমী করার বদ রোগ এনার নেই। ববির চলভাষ নম্বর আমার কাছে রয়েছে - চাইলে চেয়ে নিতে পারেন।

কাঠগোদামে কালো মেঘে ঢেকে ছিল চারিদিক। তাই ভোরের আলো ফুটে উঠতে পারেনি। সঙ্গে বেশ ঠান্ডা ভাবও ছিল। অন্ধকারে মনে হচ্ছিল উঁচু উঁচু পাহাড় দৈত্যের মতো দেবভূমি কে পাহারা দিয়ে চলেছে। নৈনিতাল গামী সড়ক কে বামপাশে রেখে দিয়ে আমরা ভীমতালের রাস্তা ধরে সাঁ সাঁ অগ্রসর হলুম। সেখান থেকে কেঁইচি, গরমপানী হয়ে আলমোড়া পৌঁছাতে হবে সেখান থেকে কোশী, সোমেশ্বর হয়ে যেতে হবে কৌশানী। কেঁইচি অবধি সব ঠিক ঠাক চলছিল। সেখানে ক্ষণিকের তরে থেমে - যৎসামান্য প্রাতরাশ ও অন্য আনুষঙ্গিক কর্ম সমাধা করে নিলুম।  কিন্তু গোল বাধল তার পরপর-ই।

lake

রাস্তার একপাশে একটি বোলেরো পিক আপ ট্রাককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমাদের গাড়িও দাঁড়াল। কাঁচ নামিয়ে ববি ভাই জিগাইলেন "পাত্থার গির রাহা হ্যায় কেয়া?" বোলেরো চালক সম্মতি দিতেই আমরাও থেমে গেলুম। শুরু হল অপেক্ষা কতক্ষণে 'পাথর পড়া' থামে, তার। আমাদের পিছন পিছন তখন আলমোড়াগামী গাড়ীর মেলা লাগতে শুরু করেছে। জীবনে যারা কোনদিন চলমান ভূস্খলন দেখেননি তাঁদের বেশ অন্যরকম অনুভূতি দিতে পারে এই পাথর পড়া। নুড়ি পাথর থেকে শুরু করে আধলা ইঁট মাপের পাথর সমানে পড়েই চলেছিল। মাঝে মাঝে তার লয় কম বেশী হচ্ছিল। ধীরে ধীরে আধমণটাক পাথর ও পড়া শুরু হল। একশো মিটার নিচে পড়ে সেগুলো যে ভাবে মুহুর্তের মধ্যে ট্যাল্কম পাউডারে রূপান্তরিত হচ্ছিল তা যেকোন লোকের শিরদাঁড়ায় (অন্যান্য তফাৎ থাকা সত্ত্বেও) একই রকম শিহরণ তুলে দেবে।  নীচে একটি প্রতীকী চলছবি দেওয়া হল। কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে বেশ খাপে খাপ মন্টুর বাপ হয়ে মিলে যায়। অনেকে এখানেও সেলফি তুলতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল কিন্তু আমি সেসব না করে শুধু দেখেছি।

https://www.youtube.com/watch?v=H-6pOdrBnCI

আধঘন্টাটাক অপেক্ষা করার পর ববির মনে হল আর সময় নষ্ট করা বৃথা, অন্য রাস্তা দেখাই সমীচীন। আমরা গাড়ি ঘুরিয়ে আবার কেঁইচি ফেরত এলুম; তারপর টল্লা ও মল্লা রামগড়ের রাস্তা ধরে ঘুরপথে আলমোড়ার দিকে হলুম। এমনিতে কাঠগোদাম থেকে ঘন্টা চারেক লাগে কৌশানী। দূরত্ব অনূর্ধ ১৩৫ কিঃমিঃ। কিন্তু এই পথে এক ঘন্টা ফাউ পাওয়া যাবে। তবে পরে বুঝেছি এতে শাপে বর-ই হয়েছিল। হ্রস্বতর পথটি উপত্যকা মধ্য দিয়ে প্রসারিত। কিন্তু এই দীর্ঘতর পথটি পাহাড়চূড়া ঘেঁষা। পাহাড়ে উঁচু জায়গার দৃশ্যানুকূলতা সবসময়েই বেশী হয়, আষাঢ় মাসে এ কথা আরও বেশী করে প্রযোজ্য। নীচে একটি ছবি দিলুম - এ যাত্রায় আমার তোলা প্রথম ছবি।


উঁচু উঁচু ওক, পাইন, ফার, বার্চ গাছের মাথায় মেঘের আনাগোনা; মাঝে মাঝে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ফাঁকে নীচে উপত্যকার ধাপে ধাপে ঝুমচাষ ক্ষেত, আর তার পাশে খেলনার মতো বাড়ীঘর দেখা যাচ্ছিল।  আলমোড়া জেলার এই অঞ্চলে বেশ কিছু ফল গাছ ও রয়েছে। ববি আমাদের আপেল, নাসপাতি, পিচ, আলুবোখারা আর অ্যাপ্রিকট ফল দেখিয়ে পেড়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে সময় সংরক্ষণের স্বার্থে আমরা তা পত্রপাঠ নাকচ করে দিই।

এরপরে আলমোড়া কে ডান পাশে রেখে আমরা কোশীর রাস্তা ধরি।  সেখানে পৌঁছে একটা পুরী ভাজি মিষ্টির খন্দ ক্ষান্তি (pit stop) নিয়ে ফের শুরু হয় পথ চলা। কৌশানী বাগেশ্বর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা সদর। কোশী আর গোমতী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এক সুউচ্চ (২৪০০ মিঃ) পর্যটনস্থল। উত্তরে গোমতীর তীরে বৈজিনাথ মহাদেব মন্দির নামানুসারী উপত্যকা ও দক্ষিণে সোমেশ্বর মহাদেব মন্দিরের নামানুসারী কোশী উপত্যকা এই শৈলনিবাসের অনন্য পরিচয় বাহক (সংক্ষেপে আধার কার্ড)। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে ও বায়ুমণ্ডলীয় দৃশ্যমানতা যথোচিৎ পরিমাণ হলে পর উত্তর দিগন্তে তিনশত কিঃমিঃ  দীর্ঘ ও প্রাচ্য-প্রতীচ্য বরাবর পরিব্যাপ্ত হিমলিপ্ত শৈলশিখরাবলী অবলোকন সম্ভবপর হয়।



হোটেলে পৌঁছাতে পৌনে একটা খানিক বেজে গেল। প্রায় ছঘন্টার পাকদন্ডী সড়ক যাত্রা তাও আবার একটা ১৫ ঘন্টার রেল সড়ক যাত্রার পরপরই। শরীর আর বইছিল না, তবে আমাদের হিমিহির সরাইখানার (sun & snow inn) কক্ষে প্রবেশ মাত্র গবাক্ষ পথের মনোমুগ্ধকর নিসর্গ  আমাদের ক্লান্তি দূরীভূত করে দেয়। আমরাও হান টান সেরে নিয়ে সরাইখানার ভিত্তিতলস্থিত ভোজনকক্ষে নেমে আসি দ্বিপ্রাহরিক অন্নজল গ্রহণার্থে।

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2016-05-16 12:29
Subject: ভুলে যাবার আগে
Security: Public

রাজস্থান সম্পর্কে গড়পড়তা সব বাঙালির কম বেশি আগ্রহ রয়েছে। যারা ছোটবেলায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (লেখকের নাম সংশোধন করে দেবার জন্য জেলুসিল স্যর কে ধন্যবাদ)লেখা 'রাজকাহিনী' পড়েছেন তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। রাজস্থানে রয়েছি প্রায় বছর তিনেক হল। কিন্তু রাজস্থানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এক যুগের (১২ বছর) ওপরে। আর বাঙালির সঙ্গে রাজস্থানীদের কৃষ্টি বিনিময় প্রায় ৪০০ বছরের। বাঙালি যেমন উন্নতি করতে বাংলার বাইরে যায় - রাজস্থানীরাও ব্যবসা করতে বড়বাজারে আসে। তারও আগে তাঁরা মুর্শিদাবাদে যেতেন। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য জগৎ শেঠ এবং উমিচাঁদ দুজনেই জন্মসূত্রে নাগোরী (রাজস্থানী), ধর্মসূত্রে হিন্দু (মাড়োয়ারী), জৈনী। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের নীল নকশা একজন বাঙালি স্থপতির বানানো - বিদ্যাধর ভট্টাচার্য। ওনার নামে শহরে বাগান ও পাড়ার নামকরণ হয়েছে। এছাড়াও মহারাণী ৺গায়ত্রী দেবী তাঁর  বাপের বাড়ী কুচবিহারের  প্রচুর লোক জয়পুরে আনয়ন করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে একটি ছোটখাট কুচবিহার পট্টি এখন শহরের বুকেই বিরাজমান।

৪০০ বছর কি তাঁর বেশী আমার সঠিক জানা নেই - অনেকটা আন্দাজে বলা। তবে রাজস্থানের মণিমাণিক্য ও হীরেজহরতের কারবারে বাঙালী কারিগরের চাহিদা ও রমরমা চিরকাল ছিল-ই; মূলতঃ তাদের দক্ষতা আর নিপুণতার জোরে। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রথম ধাপ হল শব্দ বিনিময়। বাঙালি যেমন ইংরাজি শেখার আগে নিজের অজান্তে পর্তুগীজ শব্দাবলী শিখে ফেলেছে (জানালা, সাবান ইত্যাদি) বা ফরাসী শব্দ শিখে ফেলেছে (পাঁউরুটি) সেরকম বাঙালি ও অনেক রাজস্থানী শব্দ শিখে ফেলেছে বা উলটোটা ঘটেছে। উদাহরণ নীচেঃ

রাজস্থানী -------------------------- বাংলা

ফেহরিস্ত
-------------------------- ফিরিস্তি

মেহরাব --------------------------- ম্যারাপ

জাপ্তা ----------------------------- জাব্দা

শিহরণা -------------------------- শিহরণ

খুমারি --------------------------  খোঁয়াড়ি

আতুর --------------------------  আঁতুড়

জিন্স
-------------------------- জিনিষ

খপানা -------------------------- খাপানো (কমানো অর্থে)

এই শব্দগুলো রাজস্থান পত্রিকা থেকে নেওয়া। আরো ছিল, এখন মনে পড়ছে না। পড়লে সম্পাদনা করে দেব। আমার জীবনের ১৪টি বছর (প্রথম ৩০শের মধ্যে) কেটেছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে (যথাক্রমে ৬ ও ৮ বছর) - হিন্দি সংবাদপত্র আমি আগেও অনেক পড়েছি কিন্তু অমর উজালা বা দৈনিক জাগরণে এরকম মিল পাইনি আমার মাতৃভাষার সঙ্গে। এক্ষেত্রে রাজস্থান পত্রিকার সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার মিল রয়েছে। অনেকে বলবেন এর মধ্যে কিছু শব্দ তো হিন্দীতেও পাওয়া যেতে পারে। কথাটি ভুল নয়, তবে মনে রাখা দরকার হিন্দী Top Down Lingo  আর রাজস্থানী / বাংলা  এগুলি Bottom Up Lingo.  এই প্রসঙ্গে বলে রাখি হিন্দীর নিজস্ব শব্দসম্ভার খুবই কম। যেকোন প্রাকৃত ভাষার শব্দসম্ভারের তুলনায় -




পুনশ্চঃ আরো কয়েকটি শব্দ

অলহদা -----------------------> আলাদা

নজীর ----------------------------> নজির

চাকরি -----------------------------> চাকরি (উচ্চারণ ও বানান এক)।।

মার্ফত -----------------------> মারফত

দরকার
-----------------------> দরকার (উচ্চারণ ও বানান এক)।।

তগমা -----------------------> তকমা

হোহুল্লোড় -----------------------> হই-হুল্লোড়

আগোয়ান
-----------------------> আগুয়ান

নাড়ী -----------------------> নাড়ী (উচ্চারণ ও বানান এক)।।

মনিহার (কারুশিল্পী)
-----------------------> মনিহারী দোকান (কারুশিল্প সামগ্রী বিক্রয়স্থল)

হলদিকর (ময়রা)
-----------------------> হলুইকর

পতাসী
-----------------------> বাতাসা

ধুলণ্ডী (হোলি) -----------------------> দোল (রাবিন্দ্রীক ভাষায় বসন্তোৎসব)

তরকারি -----------------------> তরকারী

লুন (উদাঃ লুনী নদী) -----------------------> নুন

বেজার -----------------------> বেজার / ব্যাজার

কোলহূ কা ব্যেল -----------------------> কলুর বলদ

শীদ্দহস্ত
-----------------------> সিদ্ধহস্ত

হটবাড়া
-----------------------> হাটবাজার

গফ্লত ---------------------------> গাফিলতি

আততাই ------------------------> আততায়ী

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2016-02-13 16:54
Subject: হাড়ী রানীর সোপানকূপ
Security: Public

ভারতবর্ষের পুরাস্থাপত্যকীর্তিগুলির মধ্যে অন্যতম হল সোপানকূপ।  উত্তর এবং  বিশেষতঃ পশ্চিম ভারতে (গুজরাত এবং রাজস্থানে) এদের সংখ্যাধিক্য দেখা যায়। পশ্চিমভারতের তীব্র দাবদাহের হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে এই সোপানকূপগুলি তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালে জলতল নিচে নেমে গেলেও তার নাগাল পেতে যাতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য এই সোপানকূপগুলিতে সিঁড়ীর ব্যবস্থা থাকত। আর এগুলির গভীরতা, যা গরমকালে  আরও বর্ধিত হত, বেশ কিছুটা শীতল হবার দরুন, দ্বিপ্রাহরিক অবসরযাপনের স্থান হিসেবে গণ্য হত।  "পিকে" নামক চলচিত্রে অগ্রসেন কি বাওলি নামে একটি সরলরৈখিক সোপানকূপ দেখা গেছিল। এছাড়া চক্রাকার, চতুষ্কোণী ইত্যাদি নানারকমের সোপানকূপ এই অঞ্চলে পাওয়া যায়।  এগুলি স্থানভেদে বাওলি (উঃপ্রঃ), বাওড়ি (রাজস্থান), ভাও (গুজরাত), বারভ (মহারাষ্ট্র) প্রভৃতি নাম দিয়ে উল্লিখিত হয়। কিছুদিন আগে একটি ইংরাজি সিনেমা ব্যাটম্যান বিগিন্স এ পৃথিবীর গভীরতম সোপানকূপ, চাঁদ বাওড়ি, দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে কিছু সমসাময়িক বিদেশি চিত্র সাংবাদিক ভারতের এই পুরাস্থাপত্যকীর্তিগুলি নিয়ে পঞ্জিকরণ ও স্থিরচিত্রগ্রহণের কাজ করছেন।

ভারতবর্ষের অধিকাংশ সোপানকূপ, এদেশীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের আওতাভুক্ত এবং  সংরক্ষিত হলেও, এদের মধ্যে অনেকগুলিই অবহেলার শিকার।  আর ইতিহাস বিস্মৃত জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সুনাম আছে বইকি - আমরা যেরকম ছয়মাস বয়সের কথা মনে করতে পারি না সেরকম,  ভুল ইতিহাস বই লেখায় আমরা সিদ্ধি-প্রাপ্ত। তাই এখন এই সোপানকূপগুলিতে অঞ্চলভেদে  অল্প কিছু স্থানীয় মানুষ, DSLR-বাগীশ চ্যাংড়া ছেলে (অনেকটা আমার মতো) আর বিদেশী(/ নি) পর্যটক দেখা যায় মাত্র। জনগণের দাবীতে একটি ছবিঃ


Hiker Duo


ভারতবর্ষের বৃহত্তম রাজ্য রাজস্থানকে ভূসংস্থান ও ভূমিবৃত্তিক ভাবে মোট ১৬ টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। নিচের ছবি দ্রষ্টব্য। এদের মধ্যে ডেকান লাভা প্লেন অঞ্চলকে স্থানীয় হাড়া রাজন্যবর্গের গোষ্ঠীনামানুসারে হাড়ৌতি নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ঐতিহাসিক নানা উত্থান পতনের সাক্ষী হাড়ৌতি মোটামুটিভাবে বুঁদির গড় কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে বুঁদি সহ কোটা, বাড়োন ও ঝালোয়ার এই অঞ্চলের প্রমুখ কেন্দ্র।

হাড়া রাজারা মূলতঃ মেবাড়ের সিসোদিয়া পরিবারের অংশ। তবে মেবাড়ের সন্নিকটে তাঁরা নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত ও মেবাড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজত্ব স্থাপন করেন। অন্য সকল সিসোদিয়া রাজপুতদের মতোই বীরত্বের জন্য হাড়া রাজাদের খ্যাতি ছিল।  সেই খ্যাতি হাড়া রানীদের মধ্যেও প্রভূত পরিমাণে বিদ্যমান ছিল।  তা নিয়েই গল্প।

Hand-Made

যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী  রাজপুতদের মধ্যে যোধপুরের রাজারা ছিলেন অগ্রগণ্য। মোগল সাম্রাজ্যের করদ রাজ্য যোধপুরের শাসক ও মোগল সম্রাট শাহজাহানের সেনাপতি হিসেবে যোধপুরের রানা জসবন্ত সিংহ নিযুক্ত ছিলেন।  বৈবাহিক সম্পর্কসূত্রে উনি ছিলেন বুঁদির হাড়া রাজা শত্রুশালের জামাই। শাহজাহানের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে মোগল রাজপুত্র ঔরংজেব ১৬৫৭ সালে বিদ্রোহ করেন ও তা দমন করতে জসবন্ত সিংহ কে আরেক মোগল সেনাপতি কাসিম খাঁর সঙ্গে উজ্জয়নীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।  নগর থেকে ১৫ মাইল দূরে ধনপতের মাঠে বিষম যুদ্ধ শুরু হয়।  অতিশয় ধূর্ত কূটনীতিক ঔরংজেব টোপ দিয়ে কাসিম খাঁ কে নিজের দলে টেনে নেন। সঙ্গে আরো ১৫ জন আমীর ওমরাহ্‌  যোগ দেন।  এই আপাতকালীন পক্ষ পরিবর্তনে সম্রাটের বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। উপরন্তু, মারাঠা বাহিনীও লড়াইয়ের ময়দান ত্যাগ করায় যুদ্ধ অসম লড়াই তে পর্যবসিত হয়, একদিকে ঔরংজেব ও সমস্ত মুসলিম সেনাপতি, অন্যদিকে বাদশাহী নুনের প্রতি অনুরক্ত ও বাদশাহী তখৎ অনুগত গুটিকয় হিন্দু রাজপুত যোদ্ধা। সংশপ্তক রাজপুত জসবন্ত সিংহ শেষ পর্যন্ত লড়তে চাইলেও ওনার অনুগামীরা ওনাকে গুরুতর আহত অবস্থায় যোধপুরের দিকে রওয়ানা করিয়ে দেন।

জসবন্ত সিংহ ৬০০ ঘোড়সওয়ার নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চলে যান, রতলামের রাজা রতন সিংহ কার্যনির্বাহী সেনাপতি হিসেবে বাকি 'ইমানদার' সৈন্যসামন্ত সমেত শহীদ হন। ঔরংজেবের সম্মিলিত "ইনামদার" ভাড়াটে বাহিনীর হাতে।  এই খবর যোধপুরে এসে পৌঁছালে শত্রুশালের মেয়ে 'হাড়ী রানী' যারপরনাই অসন্তুষ্ট হন। উনি তাঁর শ্বশ্রূ মাতা কে অনুযোগ করে বলেনঃ যুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া রাজপুতের ধর্ম, পালিয়ে আসা নয়। এতে করে যোধপুরের সঙ্গে হাড়া বংশেরও অসম্মান হল। রাজা জসবন্ত ফিরে এলে পর কেল্লার পরিখার ওপরে রাখা টানা সেতু পেতে দিয়ে, ওনাকে কেল্লায় ঢুকতে দিতে, রানী অসম্মত হন। অনেক কষ্ট করে জসবন্ত সিংহ তাঁর মাহিষী কে বোঝাতে সক্ষম হন, যে তিনি একেবারে পালিয়ে আসেননি, আবার সৈন্য সামন্ত জোগাড় করে পুনরায় - বাদশাহের হয়ে লড়াইতে ফিরবেন। তারপরে উনি নিজের কেল্লায় ঢোকার অনুমতি পান। উল্লেখ্য, রাজস্থানে সতী প্রথার চল ছিল। তাই হাড়ী রানী কে নির্মম নিষ্ঠুর মনে হলেও - আসল সত্য হল, পরম্পরার জন্য প্রাণত্যাগ আসলে দুজনকেই করতে হত।

এরপর যতদিন রাজা পুনরায় যুদ্ধযাত্রা করেননি ততদিন হাড়ী রানী ওনাকে কাঠের থালা বাসনে খেতে দিতেন। শ্লেষের সুরে তিনি বলতেন, "যদি তোমার রূপার বাসনকোসনের ঠোকাঠুকির শব্দে ভয় লাগে, তলোয়ারের আওয়াজ মনে হয়।"

এ তো গেল - এক হাড়ী রানীর গল্প। তবে আমাদের সোপানকূপের হাড়ী রানীর পরিচয় আলাদা। ইতিহাস এইসকল হাড়া রাজকন্যাদের প্রতি অবিচার-ই করেছে। এদের কারোরই নাম আলাদা করে জানা যায় না - শুধু কার কন্যা বা কার পত্নী তার উল্লেখ করা হয়। তবে নামে কি আসে যায়, তাঁদের স্বভাবসুলভ সাহসের প্রতি ইতিহাস অর্বাচীন বিমাতৃসুলভতা দেখাতে পারেনি।

মেবাড়ের এক করদ রাজ্য সালুম্বর। সেখানকার অধিপতি রাওয়াত চুণ্ডাবতের বিয়ে হয় বুঁদির আরেক হাড়া রাজার মেয়ের সঙ্গে। বিয়ের পর তাঁরও হাড়ী রানী হিসেবে পরিচিতি হয়। কিন্তু বিয়ের সাতদিনের মাথায় মেবাড়ের মহারাণা রাজ সিংহ প্রথম সালুম্বরের অধিপতিকে তাঁর সঙ্গে ঔরংজেবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আহ্বান করেন। সালুম্বরের অধিপতি  রাওয়াত চুণ্ডাবতের তখনও বিয়ের খোঁয়াড়ি কাটেনি। তিনি যুদ্ধে যেতে দোনামনা করলে হাডী রানী তাঁকে তাঁর কর্তব্যকর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ভগ্ন হৃদয়ে যুদ্ধযাত্রা করার পরেও তিনি মাঝপথে ফিরে আসেন (মতান্তরে এক দূত কে পাঠান) হাড়ী রানী কাছে। ওনার এক স্মৃতিচিহ্ন যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতে। রাজার মনোযোগ যুদ্ধে কম আর প্রেমে বেশী দেখে, হাড়ী রানী - নিজের মস্তকচ্ছেদন  করে সেই ছিন্ন মস্তক রাজা কে (পাঠিয়ে) দেন - এই বলে (লিখে) যে এটাই আমার শেষ স্মৃতি চিহ্ন - এবার যাও মন দিয়ে যুদ্ধ করো।  সেই মস্তক রাওয়াত গলায় চুলের সাহায্যে বেঁধে নিয়ে যুদ্ধ করতে চলে যানএবং তৎকালীন সম্রাট ঔরংজেবের বিশাল বাহিনী কে পরাভবের গ্লানি বুকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। কিন্তু যুদ্ধশেষে রাওয়াত নিজের স্বভূমে ফিরে যেতে অস্বীকার করেন ও নিজের মুন্ডচ্ছেদ করে প্রাণত্যাগ করেন।

ইতিহাসের গল্প এখানেই সমাপ্ত, তবে আমার গল্প আরেকটু বাকী। এই দ্বিতীয় হাড়ী রানীর স্মৃতিতে একটি সোপানকূপ খনন করা হয় টোডারায়-সিঙ্ঘ নামক এক জায়গায়।  সেটি রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে  (সর্বনিম্ন)  ১২০ কিঃমিঃ দূরে।

ASI

এই সোপানকূপ দেখার পর আমার আর একটি কাজ বাকী ছিল - বিশালপুর বাঁধ দর্শন। সেটা এই সোপানকূপ থেকে প্রায় ১১ কিঃমিঃ দূরে। এটা দেখা আমার কাছে অনেকটা তীর্থ যাত্রার মতো ব্যাপার ছিল। গত আড়াই বছর ধরে যত রান্না বান্না, কাপড়কাচা, জল খাওয়া, আঁচানো, োচানো, ইত্যাদি যত যা কিছু করেছি  সব এই বাঁধেরই দৌলতে। তাই ভক্তি প্রদর্শন ছিল অত্যন্ত জরুরী।

pipeline

বাঁধ দর্শন সেরে এগিয়ে গেলুম রাজমহলের দিকে। ৩৫০ বছর পুরোনো এই রাজপ্রাসাদ এখন এক ঐতিহ্যবাহী হোটেল। এটি বানস নদীখাতের ওপরে অবস্থিত। যদিও বানস নদী বলে এখন আর বিশেষ কিছুই অবশিষ্ট নেই। বিশালপুর ঝিল এ বাঁধ দেবার ফলে বানস তাঁর উৎসস্থলের সঙ্গে সংযোগ হারিয়েছে। কিন্তু নদিখাতে রয়ে গিয়েছে উর্বর পলিমাটি। রাজস্থানের মধ্যে এতো সবুজ অঞ্চল আমি আর কোথাও দেখিনি, উদয়পুর বা ভরতপুর কোথাও না। হাড়ৌতি দেখিনি তাই বলতে পারব না তুলনা করে। এর পর ফেরার পালা।

Rajmahal

রাজমহল থেকে একটু এগিয়ে সান্থালিতে পেলুম বুঁদি-টঙ্ক-জয়পুর রাষ্ট্রীয় রাজপথ।  টঙ্ক ৪২ আর জয়পুর ১৪৫ কিঃমিঃ। ঘড়িতে তখন বিকেল ৫টা১৫ঘটিকা। বাড়ী আসতে বেজে গেল সোয়া আটটা । মাঝে বনস্থলী (নেওয়াই) তে একবার চা খাবার জন্য মিনিট ১৫ থেমেছিলুম।

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2015-07-04 01:04
Subject: খুশীর দিন
Security: Public
Location:India, Jaipur
Mood:accomplishedaccomplished
Tags:পাপিয়া common hawk-cuckoo

প্রথমে-ই এই লিঙ্ক-এ গিয়ে একটু গান শুনে আসুন। চেনা চেনা ঠেকল তাই না?  প্রতি বছর গরমকালে এই আওয়াজ আমরা স্কুল, কলেজ, অফিস, কাছারী, ও বাড়ীতে শুনে থাকি। খুব-ই সাধারণ একটি পাখির ডাক। বাংলায় বলে "চোখ গেল" পাখী ইংরাজিতে বলে "brain-fever" (common hawk cuckoo) bird! হিন্দিতে নাম 'পিয়া কাঁহা' পঞ্ছী বা "পপীহা"। বাংলাতেও এরকম রোম্যান্টিক নাম রয়েছে বইকি 'পিউ কাঁহা' অথবা "পাপিয়া"। কি বললেন ওটা আপনার বাড়ির ডাকনাম, বেশ তো, আপনি নামের উৎস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেন। বাংলায় (বিশেষতঃ উঃ বঃ তে) অনেক মেয়ের-ই ডাকনাম হয় ফুলটুসি / মৌটুসি / বাতাসি / বর্ণালী / বলাকা / চন্দনা প্রভৃতি। এগুলি সবই পাখির নাম। না চিনে থাকলে বলবেন, পরে কোনও এক সময় এই সব পাখির চিত্র সম্বলিত লেখা দেব। ঠিক ধরেছেন - আগে জোগাড় তো করতে হবে - বলাকা রয়েছে - বর্ণালী তো নেই (পাখিদের কথা হচ্ছে কিন্তু)।

যাক গে, what's in a name, that which we call a Brain-Fever bird, by any other name, would sing as melodious - period!! ইয়ে, মানে, জার্মান জানা নেই, ফলে অধমের দৌড় সেই সেক্ষ-পীয়ার এই শেষ, উত্তর আধুনিক বাংলা খেয়াল গায়কের মতো নানা ছুতো নাতায় ব্রেশট কপচাতে পারব না। তাহলে, এই বিকেল বিকেল কেনো এত নাম-ভুমিকা? কারণ, এই অধম বিগত অষ্টাধিক বছর ধরে, এই আওয়াজ শুনে শুনে - তার (স্পষ্টতঃ সুরেলা কন্ঠী) মালিক কে অনুসন্ধান করে গেছে এবং নিরাশ হয়েছে। আপনার সহানুভূতি একান্ত-ই কাম্য।

এতদিন পরে 'ভগমান' মুখ তুলে ছেয়েছেন বলে কথা - তাই "ভাব্লুম" একটু শেয়ার দিয়ে যাই। ভারতপুর - এক বিশাল দেশ সেখানে হাত, পা, কান, গলা, নাক ইত্যাদি অনেক অচিনপুর রয়েছে। সেরকম-ই এক পুরে সকালবেলা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে আজ গেল কপাল খুলে। সেই গল্পই বলি।

গোটা মাড়-ওয়ার প্রদেশ জুড়ে রয়েছে অজস্র ছোট এবং আরো ছোট টিলা, এক নজর দেখলে উই ঢিপি বলেই ভুল হতে পারে। গৌরবে বহুবচন - তাই সামগ্রিকভাবে আরাভাল্লী (বাংলা করলে যার অর্থ শৃঙ্গ-রেখা) পর্বতরাজী বলেও ডাকা হয়। কিন্তু এদের বেশীর ভাগের-ই চূড়োয় উঠতে - প্যারাগন হাওয়াই চপ্পল ও লজ্জা পাবে।

এনারা বেশ স্বাস্থ্য সচেতন - স্বাভাবিক - বিশুদ্ধ গব্য ঘৃত খাওয়া পেট বলে কথা - আমাদের মতো - ডাল্ডা খাওয়া পেট তো আর নয়। আরো আশ্চর্য ব্যাপার এদের পরিবেশ সচেতনতা। এদের বাড়ীর উঠোনে - যদি একটা টিলা থাকে তাইলে এরা তার চার পাশে ৫ টি গাছ লাগিয়ে - নাম দেবে (অমুক-পিতৃদেব অথবা মাতৃদেবী) স্মৃতি বন - ম্লেচ্ছ ভাষায় - bio-diversity forest. এই সব জায়গায় এনারা সকাল বিকেল বিহার করতে আসেন, অনেকে "ভালোতর অর্ধেক" (শব্দ ঋণ 'মুক্তমনা') নিয়েও আসেন। সকাল বেলা বাবুল গাছের ডাল ভেঙ্গে company-র লোকেদের বলেন, "বাবুল বাবুল - পয়সা আরও বেশী উশুল - থ্রু মাগনা দাঁতূন"। হ্যাঁ, এনারা এরকম-ই। বাপ মায়ের নামে বন বানিয়ে রাখলেও - তাদের স্মৃতি তর্পণে যাতে কোনভাবে চার আনা বেশী খরচা না হয় সেই দিকে তীক্ষ্ণ নজর।

তবে আরেকটা উলটো দিক-ও রয়েছে। 'মাগনা দাঁতূন' করে যে পয়সা বাঁচে - তা দিয়ে এনারা খয়রাতী করে থাকেন - এবং অবশ্যই তা মনুষ্যেতর জীবের জন্য। সকাল বেলা - ওনাদের এক হাতে থাকে বাবুল অন্য হাতে থাকে একটা ঝোলাব্যাগ। যে যা পারে নিয়ে আসে - কারোর ব্যাগে আবার একাধিক খুপরি থাকে। কারো লক্ষ্য - পিঁপড়ে, উপকরণ চিনি। কেউবা খুঁজে বেড়ায় কাঠবিড়ালী - শুকনো ছোলা দেবে বলে (সঙ্গে আর কিছু নয় কিন্তু)। এছাড়াও বিভিন্ন পক্ষীকুলের জন্য আরও নানা রকম উপঢৌকন থাকে। এগুলো খুব সম্ভবতঃ জৈন ধর্মাবলম্বীদের দ্যাখাদেখি সমস্ত মাড়োয়ার প্রদেশে ছড়িয়ে গেছে। আমরাও কম যাই না - দেশের মানুষ ফেলে VIP ভাইপোর বিদেশী কুকুরের ডায়ালিসিস করে থাকি - কে বলে বাঙালী শুধু জিভে (গজা) সেবা (সেবন) করেন।

এরকম-ই এক বনে বাদাড়ে আজ ঘুরছিলুম। হঠাৎ দেখি দুটো লোক ঝোলা ব্যাগ হাতে টিলা থেকে নেমে এল। আমি আগেও এই বনে এসেছি। ওই টিলাতেও চড়েছি (১১ বছর আগের কথা যদিও - তখন এখানে বনের জায়গায় মরুভুমি ছিল) - কিন্তু সম্প্রতি টিলাতে চড়া টড়া আর হয় না। এই (মাথার) পক্ককেশ বয়সে এত ধকল আর পোষাবে না ভেবেই ও পথ আর মাড়াই না। কিন্তু এই বৃদ্ধ যুগল কে দেখে মনে যৌবন সঞ্চারিত হল। সাহস করে উঠে-ই পড়লুম - সেই জায়গা দিয়ে যেখানে টিলা সবথেকে নিচু।

উঠেই - এ-কি হেরিলুম - খানিক পান্তা ভাত ব্যাটারা দিয়ে গেছে টিলার উপরে। পয়সা বাঁচিয়ে জীবে সেবা বই তো আর নয় - উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ। যাক গে, অনেক খাজুরে আলাপ হল - যে কথা বলতে ভুলে গেছি - তা হল আমি বনে জঙ্গলে বিহার করতে গেলে সঙ্গে স্থিরচিত্রগ্রাহক সঙ্গে রাখি। উদ্দেশ্য - ছবি-ছাবা সংগ্রহ করা। আর টিলার ওপরে দু মিনিট দাঁড়াতেই - কানে এল সেই আওয়াজ। খুব কাছে থেকে। অতি সন্তর্পণে - আওয়াজ লক্ষ্য করে আগুয়ান হলুম। যখন মনে হল - আওয়াজ আর তিন চার হাত দূরে - তখন চারপাশ ভালো করে দেখলুম। মাড়ওয়ার প্রদেশ - বন মানেই ফণীমনসার ঝাড় নয়তো / বাবলা কাঁটাঝোপ। তার মধ্যে দিয়ে তাকানো যন্ত্রণাদায়ক অনভ্যস্ত বাংলা চোখ দিয়ে। আবার আরেকবার আওয়াজ হতেই আমি দেখতে পেলুম। আর কথা না বাড়িয়ে ছবি সাঁটিয়ে দিচ্ছি -

কিন্তু এ কি - এতো পিঠের দিক - কে বুঝবে যে এটা পাপিয়া - হুতোম প্যাঁচা নহে। এদিকে হয়েছে আবার আরেক কেলো। সামান্য যেটুকু ফলস শাটার সাউন্ড হয় আমার ধর তক্তা মার পেরেক (ইংরাজি তে  point & shoot) ক্যামেরায়, তা এই মক্কেলের কানে যাওয়ায় ইনি হলেন ফুড়ুৎ। তবে আশার কথা একটু দূর থেকেই এনার আওয়াজ আবার ভেসে আসতে লাগলো। কাঁটা ঝোপ এড়িয়ে যতটা সম্ভব এগিয়ে গেলুম - টিলার চুড়োর দিকে। এক সময়ে থামতে হল - আর রাস্তা নেই। দূর থেকেই আরেকবার চেষ্টা করলুম -


কিছুটা খুঁতখুঁতে মন নিয়েই ফিরে আসার পথ ধরলুম - ছবিগুলো পাতে দেবার মতো হলো নি। তবে যাই হোক প্রথম বারের মতো দেখতে পেলুম - কম পাওয়া বই নই। একটু অন্যমনস্ক ছিলুম হয়তো - স্থিরচিত্রগ্রাহক বাগিয়ে রাখা ছিল না (a wildlifer should put his/her camera in ready position just as I/A soldiers keep their weapon in the very position when posted at kashmir)। ইনি একটি শিলা খণ্ডের ওপরে বসে আমায় জরীপ করছিলেন - তাক করতেই উড়ে গেলেন। আমার একটা দারুন সুযোগ নষ্ট হল। তবে আবার সেই পুরনো ডালেই গিয়ে বসলেন, আবার-ও আমার দিকে পিঠ করে।

ওহো - বলা হয়নি - এই পাখী যখন ডাকে তখন তার মনোযোগ থাকে অন্য দিকে। কোনও জীবন/দিন সঙ্গী বা সঙ্গিনী (যিনি জীবন কে সঙ্গিন করে তুলতে সক্ষম) সাড়া দিচ্ছেন কিনা তার দিকেই এই পাখির মনোযোগ থাকে বেশী। আজ প্রথম নিজের চোখে এই পাখিটিকে 'পিউ কাঁহা' গাইতে শুনলুম - চক্ষুঃ কর্ণের বিবাদভঞ্জন হল।  আমাকে খানিকটা ভরসা করলেও - মাঝে মাঝে ঘাড় ঘুরিয়ে  দেখে নিচ্ছিলেন - হাজার হোক মুনিশ বলে কথা, পেত্যয় করা তো আর যায় নি।

আগেই দেখেছেন - কাঁটা ঝোপের উল্টোদিকে বসে আছেন তিনি - স্থিরচিত্র গ্রাহক ফোকাস করাও সমস্যা। উল্টোদিকে গিয়ে সামনে থেকে তুলতেও পারছি না - সামনে খাদ। কিন্তু সেটাই একমাত্র সমস্যা নয়। তাক করতে গেলেই তো ফুড়ুৎ। হঠাৎ মনে পড়ল যে এই 'ধর তক্তা মার পেরেক' যন্ত্রের একটি 'swivel' স্ক্রীণ রয়েছে। আমি মাটির দিকে তাকিয়ে-ও এনার ছবি তুলে নিতে পারব - যদি একটু কায়দা করে ফোকাস করে ফেলতে পারি। একটু চেষ্টার পর পারলুম - ভাগ্য কে ধন্যবাদ দিচ্ছিলুম - সঠিক ক্যামেরা নির্বাচন করার জন্য।

এর ঠিক একটু পরেই ইনি উড়ে গেলেন - আর তার জায়গায় এসে বসলেন এনার সঙ্গী বা ইয়ে সঙ্গিনী - একটু পরেই তিনিও উড়ে গেলেন এনার পানে। আমি এনাদের 'private affair'  এ নাক গলাব না ভেবে ফেরার পথ ধরলাম। দূরে কোথাও অন্য এক 'পাপিয়া' আশায় বুক বেঁধে তখনও ডেকে চলেছে। নিচে আসতে গিয়ে শুনতে পেলুম মানুষের সম্মিলিত অট্টহাসি - লাফিং ক্লাবের সদস্যগণ সঙ্গীদের মনোরঞ্জন করার চেষ্টা করে চলেছেন।

পরিশিষ্টঃ আগেই বড় গৌরচন্দ্রিকা দিয়ে বিরক্ত করেছি - লম্বা একঘেয়ে লেখা লিখে বিরক্ত করেছি - আবার এখন পায়জামার বুকপকেটের মতো 'বল্গের' উপসংহার লিখতে যাচ্ছি - ঈশ্বর আমারে ক্ষমা করবেন - যদি তিতিবিরক্ত পাঠক নাই বা করতে পারেন। আগেই "মুক্তমনা" নামের একটি ব্লগের কথা লিংক সমেত উল্লেখ করেছি। একটি গভীর মনোগ্রাহী লেখা - সেই সূত্রেই ফেরার সময় একটা কথা ভাবছিলুম। মানুষের জীবন এতো জটিল কেন? পৃথিবীর বাকি সব প্রাণী-ই "আহার-নিদ্রা-মৈথুনের" মতো সরল রেখায় চলে - আজীবন। মানুষ সরলরেখায় রাতারাতি উৎসাহ  হারিয়ে ফেলে। "অজীর্ণ-অনিদ্রা ইত্যাদি নানা অ-কারান্ত অ-সুখে অহর্নিশি ভোগে তারা। মানুষের জীবনে সঙ্গে আরেকটা বক্ররেখা এসে জুড়ে যায় - সেটি হল কৌতূহল। যোগ্য জুড়ীদার হলেন গুগুল বাবা - সব জ্ঞানের আকর। নৈর্ব্যক্তিক কৌতূহল কম থাকলে - ফেবু ভরসা। অন্যের সময়রেখায় গিয়ে কৌতূহলের আঁশ ছাড়ানো। এইসব করতে গিয়েই মানুষের মন যাচ্ছে ঘুলিয়ে - যাকে আর ডায়ালিসিস করেও পরিস্কার করা যাচ্ছে না।

বিঃ দ্রঃ - অন্ততঃ বানান ভুল গুলো পরিস্কার করতে - সুধী পাঠকের সাহায্য পেলে বাধিত থাকব।

*Post A Comment#Share#Link*






shabsslg
Date: 2013-05-30 00:06
Subject: আমার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ - ৫ম খণ্ড
Security: Public

ঘুমের ঘোরে কোন কালেই স্বপ্ন দেখা হয়ে ওঠে না - সেই কপাল নিয়ে আসিনি - তবুও মনে হয় সেদিন কফ-সিরাপীয় ঘোরে স্বপ্নই দেখছিলুম। দেখতে যেহেতু পয়সা লাগে না - তাই মনে হয় ভালো কিছুই দেখছিলুম - কিন্তু সেই আমার কপাল - দোরে করাঘাতের আওয়াজে আমার স্বপ্নদৃষ্ট স্বপ্নবালারা (মিস শর্বরী, মিস বিভাবরী) তাদের গায়ের রঙের মতই ফর্সা হয়ে গেলেন - কে না জানে আংশিক দৃষ্টিহীন ছেলের নাম ড্যাশলোচন।

সেই বিশ্বস্ত গুর্খাজির আবির্ভাব ঘটেছে -বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল - তারপর ধড়মড় করে উঠে দরজা খুলে দিলুম। মুন্ড তে বাঁদুরে
 শিরস্ত্রাণ আর হস্তে বৈদ্যুতিক রঙমশাল নিয়ে তিনি আমাদের তাগাদা করতে লাগলেন। কারণটি সহজবোধ্য। ওনাকে প্রাতঃকালে সাড়ে ৪ ঘটিকায় দর্শন দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমাদের কে তৈরি হবার সময় না দিয়ে তিনি ৫ম ঘটিকায় - ঝটিকা এসে উপস্থিত। ৫টি মিনিট সময় নিয়ে আমরা দুজন কোমর বন্ধনী কষতে কষতে বেরিয়ে ঘর থেকে আসলুম। আলিবাবা বললেন উনি যাবেন না। কল্য রাতে কফ-সিরাপীয় ঘোরে উনি - হাই-কমান্ড কে দূরভাষ সহযোগে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি। তাই ওনার বিছানায় শুয়ে থেকে এই প্রায়শ্চিত্ত। অবশ্য উনি আমাদের মত অর্বাচীন দের নিয়ে নিজের বেড়ান জায়গাতেই এসেছেন - কিছু হাতছাড়া হবার জো নেই সব-ই আগে ঘোরা।

রিশপ এর গড় উচ্চতা সাড়ে ৯ সহস্র পদ - আর টিফিনদাঁড়া নিসর্গ বিন্দু প্রায় ১১ হাজার পদ । মধ্যিখানে রাস্তা পায়ে চলার মত চলনসই কিন্তু বেশ সঙ্কীর্ণ এবং অনেক জায়গায় বেশ বিপদসংকুল। এবারে সঙ্গে করে আব্বাজান এর দেওয়া বৈদ্যুতিক রঙমশাল নিয়ে আসায় তেমন অসুবিধা হচ্ছিল না বটে কিন্তু ফেরার সময়ে অনেক জায়গায় রাস্তার অবস্থা দেখে শিউরে উঠছিলুম। এই ভেবে যে অন্ধকারের মধ্যে ওই সমস্ত জায়গা পার করে এসেছি।

জায়গাটি খানিক দূরে - ঘণ্টা খানেক এর পথ - এমনিতেই রওয়ানা দিতে দেরি হয়ে গেছে।  রবি মামা পাহাড়ের কোলে হামা দেওয়ার আগেই আমাদের পৌঁছতে হবে ভেবে পা চালিয়ে এগোলুম। যদিও বার তিনেক দম নেবার জন্য থেমেছি - অতিরিক্ত উচ্চতায় বাঙ্গালীর ফুসফুস হাপরের মত ফুউস ফুউউস করতে থাকে।
এসব দেখে গুর্খালি তাচ্ছিল্য মিশিয়ে আমাদের বিশ্বস্ত গুর্খাজি বললেন - জলদি সাব - নেহি তো সাবেরা হো যায়েগা।

জঙ্গলের ভিতর দিয়ে শেষ ২৫০ গজ রাস্তা বেশ খটমট। সঙ্গে মার্গদর্শক না থাকলে হদিশ করা কঠিন। শিলিগুড়ি নিবাসী কিছু মেড়ো (চন্দ্রবিন্দু মতে মাওড়া) সেই বোতল-গর্দানে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন - তাদেরকেও সঙ্গে করে আমাদের পরম করুনাময় গুর্খাজি নিসর্গ বিন্দু অবধি নিয়ে এলেন। দৃশ্যপট বর্ণনা ছবিতেই হোক - কারণ লিখে করতে গেলে - গণকযন্ত্রের চাবিকাঠি ভেঙ্গে যাবে।






























আমাদের বিশ্বস্ত গুর্খাজি - দর্শকের বাম দিকে।








এর পরে গল্প আর অল্পই বাকি। শেষ বারের মত তুষার ধবল শৃঙ্গ দর্শন সেরে আমরা ফেরার পথ ধরলুম। কাঁচামিঠে রোদে বেশ ভালই লাগছিল চারপাশ - আর তার চেয়ে বড় কথা  আমরা উতরাই পথে ফুরফুরে হাওয়া খেতে খেতে নামছিলুম। এক ঘন্টার পথ পৌনে ঘণ্টায় পার করে ফিরে এলুম। জায়গায় জায়গায় দেখলুম শিশিরকণা জমে বরফ হয়ে গেছে। আরো কিছু ছবি দেওয়া যাক।











বিদায় বলতে না চাইলেও বলতে হয়। বিশ্বস্ত গুর্খাজি কে নগদ বিদায় করে, ঘরে ফিরে এসে দেখি আলিবাবা উঠে পড়েছেন  - হাই কম্যান্ড এর মানভঞ্জন ও সমাপ্ত হয়েছে। গরম চায় সুড়ুৎ সুড়ুৎ চুমুক দিচ্ছেন। আমরাও নিজেদের জন্য চা বলে দিলুম। অসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে টুকিটাকি গোছগাছ সেরে তৈরি হয়ে নিলুম। ৮ টার সময়ে আবার খনিজ তৈল চালিত শকটে আরোহণ পূর্বক বাড়ীর দিক রওনা হলুম। মাঝে লাভা তে প্রাতরাশের জন্য একটু থেমেছিলুম - এক বাটি ডিমাউমিন খেয়ে আবার উতরাই পথে চলতে থাকি।  যে পথে এসেছিলুম ঠিক সেই পথেই সমতলে নেমে আসি। শুধু ওদলাবাড়ি থেকে সেভক এর রাস্তা না ধরে আমরা গাজলডোবা ব্যারাজ এর পথে চলে যাই। উদ্দেশ্য - আপাত নিষিদ্ধ ব্যারাজের কয়েকটি তাস্বির গ্রহণ - সঙ্গে - নৌকাঘাট এ কিছু জলচর বিহঙ্গ দর্শন। অতিশয় খানা খন্দ পূর্ণ রাস্তা দিয়ে ফিরে আসার আরেকটি সুবিধা এটি শিলিগুড়ি শহর কে পাশ কাটিয়ে সোজা - নূতন জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন এ গিয়ে উঠবে।










শেষমেশ সাড়ে বারোটা নাগাদ ইস্টিশানে এলুম। এসেই মনে হল একি হেরিলুম। এখানে এত উন্নতি হয়েছে যে অনায়াসে জুরিখ বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে (কি দেখেছিলুম Zanti হলে সত্বর আলিবাবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন) - আপাতত আমার পরামর্শক্রমে আলিবাবা দুটি সর্বোচ্চ গতিমান যুক্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর পারানি  খরিদ করলেন। শেষ অবধি ওনাদের শ্লথ গতির কোন রেলগাড়ি করেই বারসোই অবধি যেতে হয়েছিল - সে অন্য প্রসঙ্গ। ওনাদের নবজল্পাইগুড়ি তে রেখে আমি বাড়ী ফিরে আসি। ওনারা, সন্ধ্যে পৌনে সাতটা নগাদ বারসোই থেকে কলকাতাভিমুখি রেলগাড়ি তে উঠে ফিরে যান। এই ভাঙ্গাভাঙ্গির খেলাটি হয়ত খেলতে হত না যদি না আলিবাবার - সবাইকে নিয়ে চলার এক অদম্য প্রচেষ্টা থাকত। মাঝখান থেকে আমাদের এ যাত্রা জাপানী ভ্রাতার সঙ্গে দেখা হল না। এবারের সিদ্ধান্ত - আসছে বছর আবার হবে - আর কাউকে বলাও হবে না - গুরুভাই সঙ্ঘ জিন্দাবাদ।

সমাপ্ত। 

*2 Comments#Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2013-05-14 01:34
Subject: আমার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ - ৪র্থ খণ্ড
Security: Public

ইচ্ছা থাকলেও, বছরস্য পয়লা দিবস, সুইজারল্যান্ডে বেলা অবধি ঘুমিয়ে কাটাতে পারলুম না। আমার হিয়ার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুষুপ্ত চিত্রগ্রাহক ঊষাকালীন হিমালয়ের নিসর্গ চিত্র গ্রহণ করতে মনস্থ করেই নিদ্রা গেছিল। আমি জানতে পারি নি এই যা। ফলতঃ কোন রকম নিদ্রাভঙ্গকারী ঘণ্টাধ্বনি ছাড়াই - আমি (গোটাটাই) শয্যা থেকে উত্থিত হই। যথারীতি - আমার দুই বন্ধু তখন অঘোর দেশে। আমি তাদের যামপান উপরান্তে যামিনীযাপনে বিঘ্ন না ঘটিয়ে - সাবধানে চোগাচাপকান পরিধান করি - এক তো সুইজারল্যান্ড, দুই আবার (ইং) বছরের পয়লা দিবস (মানে অরন্যদেব থেকে শক্তিমানে পরিবর্তিত হই)। স্থিরচিত্রগ্রাহক টিকে বাগিয়ে নিয়ে প্রথমেই খাদের ধারের - না রেলিং নয় - জানালাটা খুলি। দৃশ্য ১ দ্রষ্টব্য


 

দৃশ্য ১

তার পর সামনের দিকের জানালা খুলে তপ্তকাঞ্চন বর্ণ গিরিশৃঙ্গের দিকে সংখ্যায়িত স্থিরচিত্রগ্রাহক তাক করে প্রাণপণ নিকটে এনে যথাসম্ভব বিবর্ধিত চিত্র গ্রহণ করলুম। হস্তগত অবস্থায় এই কাজটি করা বেশ কঠিন - অন্ততঃ রিশপ থেকে কাঞ্চনীয় স্কন্ধকাটা (shoulder drop) ছবি - তাও মুণ্ডন (cropping) বিহনে - যারা গ্রহণ করেছেন তারাই জানেন। চিত্র ২ দ্রষ্টব্য



চিত্র ২


পৃথিবীর ৩ য় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনে রোদ লাগলেও - গোটা এলাকা তখনও সূর্য্যালোকহীন।




আমাদের সরাইখানার পাশে গতরাতের ন্যাড়াপোড়া ছাইয়ের গাদা তখনও রয়েছে। কিছুক্ষণ পরে দেখি আমাদের শকটচালক - ওইখানে আবার একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে উদ্যত। এখানে বলে রাখি - আমাদের ঘরে দ্বিতীয় তলে ওনাকে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অত্যধিক কফ সিরাপ পানান্তে -উনি ওপরে যেতে অসম্মত হন - আমাদের ত্রিমুর্তির উপর্য্যপুরি অনুরোধ সত্ত্বেও উনি গাড়ির মধ্যেই রাত্রি যাপন করতে মনস্থ করেন। তাই প্রথমে ওনাকে দেখে খুব মায়া হয়েছিল - একটু উষ্ণতার জন্য - বেচারা কাঠ কুটো জোগাড় করছেন। পরে অবশ্য বুঝতে পারি - উনি এই করাল শীতেও সুইজার-ল্যান্ডীয়  উষ্ণ পরিবেশ সন্ধান করবার জন্য - আমাদের সঙ্গে রাত্রিবাসে অসম্মত ছিলেন। নেপালী ভাষায় পারদর্শিতা এক্ষেত্রে ওনার সহায় হয় - খুব সম্ভবত একটি মনোরম নিশাযাপনান্তে, উনি অগ্নিসান্নিধ্যে অঙ্গবেদনা দূরীভূত করার ফিকিরে ছিলেন - আমি এক রামছাগল - তখন এতকিছু বুঝতে নারিলুম।



এতটা পড়ে যারা আমায় চর্মকার বা 'সাধ্যাতীত সাধের আকর' (সংক্ষেপে, মধ্যবিত্ত) পুরুষ বলে গাল পাড়ছেন তাদের জন্য বলি, আমি শীঘ্রই  প্রকৃতি ক্রোড়ে পুনরায় পতিত  হব।


অবশেষে যখন দিনকর একটু ওপরে উঠে এসে কাঞ্চন কে রৌপ্য বর্ণ ধারণে বাধ্য করলেন ...






... তখন আমাদের সরাইখানার ঠিক সামনে ও খানিক নিচে অবস্থিত গ্রামটি এক অদ্ভুত কাঁচামিঠে রোদে ভোরে গেল। দেখে মন ভরে গেল - পরে আলিবাবা দেখে চমৎকার বললেন - সে প্রসঙ্গ আলাদা।





অতঃপর আমি সরাইখানায় ফিরে এসে আবার শয্যাবলম্বী হলুম। অর্ধজাগ্রত অবস্থায় অপেক্ষা করতে রইলুম কখন সেই বিশ্বস্ত গুর্খা ভদ্রলোক বিছানা-চা নিয়ে এসে আমাদের কপাট ধাক্কাবেন। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ তিনি এলেন এবং প্রাতরাশের হুকুমনামা সংগ্রহ করে গেলেন। এতদিন পরে আর মনে পড়ছে না ঠিক কি খেয়েছিলুম - আলিবাবার মনে থাকলে বলে দিতে অনুরোধ করি। তবে - আমরা সিরাপ সহকারেই প্রাতরাশ সেরে বীর-পুরুষ সেজে ও গুজে বেরিয়ে পড়লুম স্থান দর্শনে। কিছু ছবি নিচে দেওয়া হল।



















মনযোগী  পাঠক বা দর্শক এতক্ষণে নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে - কাঁচামিঠে রোদ পড়া গ্রামের পিছনের পর্বতমালা আর সবুজ বাড়ীর পিছনে পর্বতমালাটি একই - কিন্তু আলোকচিত্রে তুলনামূলক ভাবে অসমান আকারের প্রতীত। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তাহলে কোনটা আসল - আসল হল সেটাই যেটা খালি চোখে দেখা যাবে - আলিবাবার মাথার ওপরে যে পর্বতরাজি বিরাজিত তাই হল আসল চর্মচক্ষে দৃষ্ট সাইজ - কথায় বলে পর্বত কেও pbuh এর কাছে আসতে হয়। ম্লেচ্ছ ভাষায় এই তুলনামূলক ভাবে ছোট বড় হওয়াকে perspective distortion  বলা হয় - wiki - থেকে বিস্তারিত জ্ঞাতব্য - যদি না আপনি চিত্রগ্রহণে খলিফা স্থানীয়  কেউ হন।





আরও বেশ কিছুক্ষণ ঘুরন-ফিরন করে আমরা সরাই খানায় ফিরে এসেছিলুম - উৎসাহী রা বলেন - রিশপ থেকে নাকি জেলেপ লা গিরিবর্ত্ম দৃশ্যমান হয় - অতি উৎসাহী রা নাথু লা র নাম ও নেয়। আমরা অত কিছু খুজিনি তবে আলগরা আর পেডং দেখতে পেলুম। সত্যি কথা বলতে কি, চারদিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে খানিক একঘেয়ে লাগছিল তাই আর বেশী ছবি দেওয়া সমীচীন মনে করি না। দ্বিপ্রাহরিক  ভোজনের পরে বিকেলে সবাই ঘুমালেও আমি বিহঙ্গ দর্শনে নিষ্ক্রান্ত হই। আজ আর ভাল লাগছে না - পরে সময় করে তাস্বির দেব। শেষ রজনীটিও যথাবিহিত ষোড়শোপচারে সিরাপ নৈবেদ্য সহকারে পালিত হয়। গুর্খাজীর ওপরে দায়িত্ব রয়েছে - কাল ভোর হবার আগেই টিফিনদাড়া নিয়ে যাবার - তাই আমরা সময় মত ঘুমিয়ে পড়ি।


শেষে নারিন বনাম গেইল এর একটি ছবি



*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2013-05-08 22:55
Subject: আমার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ - ৩য় খণ্ড
Security: Public

চলভাষের জাগ্রতকারী ঘণ্টি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বেজে উঠল - আমরাই ঘুমোতে যাবার আগে এই সময় আগাম নির্ধারণ করে রেখেছিলুম - সূর্য্যদয়ের সময় থেকে হিসেব করে দেড় ঘণ্টা আগে। লোলেগাঁও থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে ঝান্ডিদাঁড়া বলে একটি জায়গা রয়েছে - যা একই সঙ্গে সূর্য্যদয় বিন্দু এবং চতুর্দিক বিস্তৃত দৃশ্য অবলোকন বিন্দু। তো সেই বিন্দু তে সূর্য্যদেব এর আগেই হানা দেব বলে এত তোড়জোড়। মুখে চোখে সাদা জল দিয়ে আমি আমাদের গাড়িচালক কে তার আস্তানা থেকে ডেকে আনতে গেলুম। সে বেচারী কফ সিরাপ এর প্রভাবে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। তবে সে খালিফা শ্রেণীর মানুষ - যেকোন অবস্থায় - যেকোনো সময়ে - যেকোনো দিকে - যেকোনো অভিযানে বেরতে প্রস্তুত - ৫ মিনিট এর বিজ্ঞপ্তিকালে। আরেকজন হলেন আমাদের আলিবাবা স্যার - ঠিক পাঁচটা বেজে ১০ মিনিটে লেপ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন - লিভ ইন এর পাতলুন আর পশুচর্ম নির্মিত বহিরাবরণ অঙ্গে ধারণ করেই নিদ্রা গেছিলেন। ঠিক সোয়া পাঁচটায় আমরা শকটে চেপে  ঝান্ডিদাঁড়া  অভিমুখে রওয়ানা হলুম। আগের দিন ই রাস্তা দেখে রেখেছিলুম - তাই দশ মিনিট এর মধ্যেই উদ্দিষ্ট
 স্থানে অবতরণ করলুম। এখানকার বাকি বিবরণ চিত্র সহযোগে প্রকাশ করছি -














সকাল সাড়ে ছটার সময় আবার আমরা শকটে চেপে সরাইখানার উদ্দেশ্যে রওনা হলুম। পৌনে সাতটার সময় - চা জলখাবার এর হুকুমনামা জারী করে গোসল ঘরে এক এক করে স্নান, ক্ষৌরকর্ম, শৌচাদি  সারতে লাগলুম। সকাল ৯ টার মধ্যে আমরা ডিম্যাগী খেয়ে - সরাই খানার মূল্যপত্র সমাশোধন করে বেরিয়ে পড়লুম - এবারে বেড়ানোর স্থান রিশপ। লোলেগাঁও ও রিশপ এর গ্রন্থি বিন্দু হল লাভা - একটি থেকে আরেকটি যাবার হ্রস্বতম পথ লাভা অতিক্রম করে যায়। তাই লাভায় নেমে একটু চিত্র গ্রহণ অধিবেশন হল।















লাভা থেকে আমরা একটি অপরিকল্পিত  স্থানে যাবার ও চেষ্টা করেছিলুম। চাঙ্গি ফল বা জলপ্রপাত লাভা থেকে ১২ সহস্র গজ দূরে। কিন্তু যাবার রাস্তাটি পাকদন্ডী স্বরূপ - পদব্রজে গমনের উপযুক্ত। গাড়ীর চালক এক্ষেত্রেও বেঁকে বসল। বলল - বেশিদূর গিয়ে হয়ত গাড়ী ঘোরানোর জায়গাও পাবো না। আমরা তাই - উক্ত প্রপাত দর্শন না করেই রিশপের দিকে অগ্রসর হলুম। রিশপ তুলনায় অনেক কাছে - মাত্র ৫ সহস্র গজ। কিন্তু সে রাস্তাও তথৈবচ। গাড়ী চলে ঠিক-ই কিন্তু অতীব সন্তর্পণে। পাশাপাশি দুটি পবননন্দনীয় শকট (মারুতি অষ্টশত) ও একে অপরকে অতিক্রম করার স্থান সঙ্কুলান হয় না। আর পথ বলতে নুড়ি পাথর এর সমষ্টি - তবে নুড়ি গুলির অধিকাংশই অমরনাথ তীর্থের দেবমূর্তির মত প্রমাণ আকারের। শেষমেশ আমাদের চালক এর দক্ষতায় আমরা অক্ষত অবস্থায় রিশপ এ  আবির্ভূত হই। সেখানে হোটেল খুঁজতে একটু সময় লাগল। কারণ একই নামে দুটি হোটেল - একটি বড় আরেকটি ছোট - সম-মালিকানাধীন। ছোট্টটি তে আমাদের বন্দোবস্ত - এবং সেটির অবস্থান অসামান্য - পরে সে কথায় আসব।  বড় হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় দেখলুম - আরো পর্যটক গোষ্ঠী প্রবেশ করছেন - এবং  গোষ্ঠীর মহিলাবৃন্দ ক্রন্দনরতা। পরে আন্দাজ করলুম এনারাও লাভা থেকে ওই বিপদসঙ্কুল পথ অতিক্রম করে আসার জন্য ভীত হয়ে পড়েছিলেন - বর্তমানে-(এঁদে)-র ভগবানের ভয় কেটে গিয়েছে - তাই এনারা এখন, ভক্তিবারি তে ভেসে যাচ্ছেন।


অবশেষে আমরা আমাদের সরাইখানায় সর্বোচ্চ তলে উপস্থিত হয়ে দেহ রাখলুম, তবে সেটি আরাম কেদারায়। চারপাশে অপূর্ব দৃশ্য।  তিন দিক খোলা - সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা - ডান পাশে খাদ। আমরা একটু কফ সিরাপ সহযোগে এই দৃশ্য উপভোগ করলুম - সবাই অবশ্য তাই করে - নিচে দ্রষ্টব্য






আমাদের এই সরাইখানাটি নতুন, ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে - তবে তার থেকে আমার যেটি বেশী ভালো লাগল - তা  এর দ্বি-স্তরীয় নকশা আর শয্যা থেকে কাঞ্চন অবলোকনের সুযোগ। নিচে কয়েকটি চিত্র প্রদান করিলুম।















দ্বিপ্রাহরিক ভোজন এর পদ নির্ধারণ করে (একটু পর্যটক বিরল স্থান তাই আগাম স্থির করতে হল) আমরা চরতে বেরোলুম। তার কিছু ছবি নিচে দেওয়া হল।














এই সময়েই আমরা (গৌরবে বহুবচন আসলে আলিবাবা) ঠিক করলুম যেহেতু আজ বছরের শেষ দিন, তাই,  শেষ রাতটিতে আমরা ঝিঙ্কিচাকি গীতিবাদ্য বিহনেও ন্যাড়াপোড়া উৎসব করব। পৃথিবীর এক অন্যতম সংখ্যালঘু হলুম আমরা - যাহা ভাবন্তি তাহাই করন্তি। দ্বিপ্রাহরিক ভোজনপূর্বক আমরা সরাই-মালিক কে আমাদের ইচ্ছা প্রকট করলুম। উনি বললেন - ওনার এক বিশ্বস্ত গুর্খাকে উনি আমাদের সেবায় নিযুক্ত করবেন - তবে বর্তমানে সে জঙ্গলে, ন্যাড়াপোড়া উৎসব জনিত কাঠ সংগ্রহ করতে গেছে। সে ফিরে আসলেই - তাকে দিয়ে আমাদের কে সুইস মোরগখানায় প্রেরণ করবেন। সেই সময়টুকু আমি পক্ষীকুলের ছবি তুলে আর অন্যরা  ফেভিকল যুক্ত গান দেখে কাটিয়ে দিল। পরে আমরা মোরগ ধরতে গেলুম এবং মোচ্ছব করলুম। কথা আর না বাড়িয়ে - তস্বির চিপকে দি-ই।




সুইস  মোরগ





কফ সিরাপ







বন্ধুত্ব





ভালবাসা






এবং আকাঙ্ক্ষা

ওই বছরের শেষ যামিনী যাম সহকারে মোরগ দিয়ে - ভালই কেটেছিল - আবিষ্কারের মধ্যে ছিল - ন্যাড়া পোড়ানোতে আলিবাবার দক্ষতা - (যার মধ্যে - আগুন জ্বালিয়ে রাখার জন্য নির্র্দিষ্ট সময়ে অন্তর প্রিজমাকারে চ্যালা কাঠ সাজিয়ে দেয়াও রয়েছে) আর আমাদের চালক (সংক্ষেপে জিও কাকা) এর কফ সিরাপ খেয়ে বার বার খাদে গড়িয়ে পড়া - (সঙ্গে ন্যাড়া পোড়া আগুনে মুখ গুঁজে দিয়ে বিড়ি ধরানোর চেষ্টাও ছিল ) আর আমাদের তুলে আনা। আমি নিজেও বার (বার সিরাপ) খেয়ে একটি স্ব-প্রতিকৃতি তুলে ফেললাম।





সেই বিশ্বস্ত গুর্খাটির সঙ্গে আগেই কথা হয়ে ছিল, পরের দিন একটি সূর্য্যদয় বিন্দু দেখাতে নিয়ে যাবে। কফ সিরাপের মাত্রা বেশী হওয়ায় আমরা রাত্রিকালীন ভোজনের সময়ে তাকে বারণ করি। বলে দিই, কাল ভোরে নয় পরশু ভোরে যাব। তার আগে নতুন বছরের নতুন সকালে একটু ভালো করে ঘুমোব। সেদিন কিছু না বললেও পরে - আমায় আলিবাবা বলেছিল - আমার পালিত সেরা নববর্ষ পূর্ব সন্ধ্যা। সেদিন মন ভরে গেছিল।





বাঁকা চাঁদ - শূন্য খাদ - সিরাপের ঢেউ - আর কনকনে ঠাণ্ডায় - ন্যাড়াপোড়া সেঁক নিয়ে আমরা বছর পার করে দিলুম।

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2013-05-04 13:20
Subject: আমার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ - 2য় খণ্ড
Security: Public

পরদিন ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ - আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার দুই বন্ধু তখন নিদ্রিত। গতকাল তাদের ওপরে ধকল গেছে ভেবে আমি ওদের না ডেকেই উঠে পড়ি। দন্ত মার্জনা এবং আনুষঙ্গিক কর্মোপান্তে আমি ঠিক পৌনে ৬ টা নাগাদ আমি আমাদের সরাইখানার কাষ্ঠনির্মিত কামরায় তালা দিয়ে, আমার স্থিরচিত্র গ্রাহক যন্ত্র সম্বল করে বেরিয়ে পড়ি। দুই বন্ধুর-ই চলভাষ রয়েছে - ফলে তালা মারতে অসুবিধা ছিল না - শুধু আমি পরিষেবা ক্ষেত্রের ভিতরে থাকলেই হবে। লোলেগাঁও তে একটি মাত্র চলভাষ গম্বুজ থাকায় আমি সরাই খানার আসে পাশে থাকার পরিকল্পনা করলুম।

রাস্তায় পা দিয়েই চোখে পড়ল - এক বিশাল বুদ্ধ মূর্তি। তখন ঠিক সকাল হয়নি তবে ভোরের আলো ফুটেছে। কালবিলম্ব না করে আমি মূর্তির পাদদেশে উপনীত হয়ে চিত্র গ্রহণ করতে শুরু করলুম। নিচের নমুনা দ্রষ্টব্য।

Lord Buddha

ইতিমধ্যে মূর্তি-র পিছনে সূর্য্য উঠে গেছে। আমি পিছনে ঘুরেই দেখতে পেলুম এক মনোহারী দৃশ্য। পণ্ডিতজনে বলেন একটি ছবি ১০০০ শব্দের সমান - তাই আর কথা বাড়াবো না।

KanchenDzongha


Kanchan-Range

এরপর একটু হাঁটা হাঁটি  করে পৌনে ৮ টা নাগাদ সরাই খানায় ফিরলুম - বন্ধুদের ঘুম থেকে তুলে চা ও প্রাতরাশ এর হুকুম জারী করলুম। কর্মীদের তৎপরতায় আর বন্ধুদের দ্রুততায় আমরা আবার সাড়ে নয়টা নাগাদ, স্নান টান সেরে বেরিয়ে
পরলুম। আশে পাশে সামান্য চিত্র গ্রহণ অধিবেশন হল। নমুনা দ্রষ্টব্য।

bondhura





এরপর সরাইখানা মালিক এর উপদেশ অবলম্বন করে আমরা চারখোল গ্রাম অভিমুখে রওনা হই। পথ অতীব বন্ধুর হওয়ায় - গাড়ীচালক মাঝরাস্তায় বেঁকে বসে। বলে এই রাস্তায় গাড়ী বসে গেলে আমাদের ও পথে বসতে হবে। অবশেষে স্থির হয় আমরা ওই পাহাড়ি পথের ধারে বন ও খাদের ছবি তুলেই ফিরে আসব। এই অধিবেশন এর কয়েকটি নমুনা নিচে দেওয়া হল।
















আমাদের সঙ্গে ঠাণ্ডা নিরোধক কফ সিরাপ থাকায় আমরা টা সেবন করি এবং তাতে আমরা মিঠে রোদে হেঁটে  প্রায় আধ মাইল টাক চলে যাই। সিরাপীয় উৎসাহ-র কিছু নমুনা -













এরপরেও দ্বিপ্রাহরিক ভোজনের সময় কিছু বাকি থাকায়, আমরা ঠিক করি যে আমরা লোলেগাঁও এর বিখ্যাত ঝুলন বীথিকা দেখতে যাব। সেই দেখার কিছু নমুনা -













আমরা কোথাও বেড়াতে গেলে - হিন্দু থেকে হিন্দুস্তানী হয়ে যাই - মানে দুই বেলা রুটি/চাপাটী খাই। এর কারণ হল - বাঙ্গালীর পেটে ভাত পরলেই সে বিছানাবলম্বী হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে আমাদের সরাইখানায় - দ্বিপ্রাহরিক ভোজনের বন্দোবস্ত হিসেবে রুটি থাকে না। কি আর  করা - ভরপেট ডাল ভাজি সব্জি মাছের ঝোল দিয়ে অন্নগ্রহণপূর্বক আমরা পুনরায় বহির্গমন করলুম। যদিও কিঞ্চিৎ মন্থর গতিতে। গাড়ীচালক কে বললুম  ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে - যেহেতু এবার আমরা দূরে কোথাও যাব না তাই তৈল শকট লাগবে না। এ যাত্রায় আমরা - ডব্লিউবিটিডিসি আর জিটিএ র ট্যুরিস্ট লজ দেখতে পেলুম। যদিও প্রথমটি কে দ্বিতীয়টির লোকজন  আক্রমণ করে পুড়িয়ে দিয়েছে তবুও তার উঠোন টুকু মনোরম - কিছু অবলোকনযোগ্য চিত্র নমুনা স্বরূপ দেওয়া হল।




হিংসার বলি ১




হিংসার বলি ২









ধীরে ধীরে সে  - ইয়ে - মানে - আস্তে আস্তে সূর্য্য  পশ্চিমাকাশে ঢলতে শুরু করে দিল দেখে আমরা স্থানীয় লোকেদের জিজ্ঞেস করলুম কাছেপিঠে কোন সূর্য্যাস্ত বিন্দু রয়েছে কিনা। আমাদের ভাগ্য প্রসন্ন - সামান্য দূরেই তা অবস্থিত। তবে একটি সমস্যা রয়েছে  - প্রায় ৩৫০/ ৪০০ গজ খাড়াই ভেঙ্গে তবে সেটা দেখতে পাওয়া যাবে। কফ সিরাপ এর দৌলতে আমরা তখন অকুতোভয়। অমরনাথ, বৈষ্ণোদেবী গমনকালে লোকে  যেরকম বাঁকির ডালা  বা খচ্চর এর পৃষ্ঠারোহণ করে - সেইরূপ দুর্দশা আমাদের হয়নি। সামান্য পরিশ্রম সহকারে আমরা সেখানে পৌঁছাই। আমাদের আগমন কালে উক্তস্থলে একটি পাহাড়ি রামছাগল ও তার তিন সন্তান ব্যাতীত জনপ্রাণী ছিল না। পরবর্তীতে আরও অনেক ভ্রমণ পিপাসু একে একে উপস্থিত হন। আমরা সঙ্গে বৈদ্যুতিক রঙমশাল নিয়ে না আনার জন্য - প্রকৃত সূর্য্যাস্ত হওয়ার আগেই আমাদের নেমে আসতে হয়। কয়েকটি ছবি দিলুম -







দিনের শেষে - আমরা সরাই খানার কাছে ফিরে আসি। তবে ঘরে ফেরার আগে স্বল্পকালীন চা বিরতি গ্রহণ করি।তার-ই কয়েকটি ছবি
নিচে দিলুম -







সন্ধ্যার পর আমরা আবার কিঞ্চিৎ কফ সিরাপ সেবন করে আর রুটি তরকা খেয়ে ভাল ছেলের মত ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন ভোরে উঠতে হবে।

*Post A Comment#Share#Link*



shabsslg
Date: 2013-05-04 01:20
Subject: আমার সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ - ১ম খণ্ড
Security: Public
Mood:happyhappy

কেউ যদি ভেবে নেন - যে ইয়াশ চোপড়া বা জোহর নির্মিত ছায়াছবি-র বহিঃকপাট দৃশ্যের সুইজারল্যান্ড এর কথা বলছি - তাইলে ভুল করবেন। এ সুইজারল্যান্ড আপনার আমার - ফি বছর গরম কালে লন্ডন - ইয়ে - কলকাতা থেকে ট্রেন ধরে চলে আসা যায়। এই অবধি পড়ে কেউ হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিলে, আমি কষ্ট পাব তো-নাই উলটে তাঁর ২৪ সেকেন্ড সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করবো। কারণ এর পরেও যাঁরা পড়বেন (যদি আদৌ কেউ) তাঁরা আমার-ই মতন দেহাতি সুইজারল্যান্ড-পন্থী।

এতক্ষণে - পাঠক উপলব্ধি করেছেন হয়ত যে মোর আদি নিবাস গোর্খাল্যান্ড - ইয়ে - দার্জিলিঙ জেলা, পঃবঃ। এই জেলার আদি বাসিন্দা দের তুলনায় এই বঙ্গ-সন্তান অনেক মন্থর এবং অলস হবার কারণে তার নিজের জেলাটিও ভাল করে দেখা হয়ে ওঠেনি - বুড়ি ছোঁয়ার মত কয়েকটি জায়গা ছুডুকালে গেছিলুম - কিন্তু তা নিতান্তই গুরুজনদের তত্ত্বাবধানে।

এহেন আমি - আমার কলকাতাস্থিত বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় গত দিসেম্বর মাসে একটি মধু/আইবুড়ো চন্দ্রিমার পরিকল্পনা করি। পরিকল্পনা বলতে অংশগ্রহণের মাত্র। ভোজনং এবং শয়নং ইত্যাদি যাবতীয় খুঁটিনাটি রাইটার্স - ইয়ে - কলকাতা থেকেই হচ্ছিল। আর ঠিকই তো - আমি তো ওখানেই থাকব ওই সময় - লেজুড় হিসেবে জুড়ে গেলেই হল।

তবে বিধি বাম (একদম অপরিবর্তনীয়)। বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া-র মত করে - এক এক করে অনেক লোকজন পাতলা হয়ে গেল -নানান রকম  কারণ দেখিয়ে। ১৫ জন কমে ৪ হয়ে গেল। আমি বাদে সবাই জীবিত - শুধু আমি-ই গৃহপালিত। অগত্যা - বিশুদ্ধ আইবুড়ো চন্দ্রিমার পরিকল্পনা পুনরায় করা হয়। তার জন্য যে যে ঝক্কি পোহাতে হল সেসব বিশদে যাব না - তাতে বেড়ানোর আনন্দ মাটি হবে।

অবশেষে - প্রতীক্ষিত দিনে - কলকাতা থেকে দুজন মাত্র নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে অবতীর্ণ হলেন। তবে অশেষ কষ্ট করে বারসই তে রেলগাড়ি পালটে এত দূর  আসাটাই অনেক বইকি।  আমি  খনিজ তৈল চালিত শকট ও তার চালক নিয়ে যথাস্থানে উপস্থিত ছিলুম  - আমাদের যাত্রা শুরু হল। আমাদের পরিকল্পনা ৪ দিনের। ২ দিন লোলেগাঁও আর বাকি ২ দিন রিশপ - যাবার পথে লাভা ও অন্য দ্রষ্টব্য পারলে ছুঁয়ে যাওয়া।

একে তো ট্রেন লেট - তার ওপর সুইজারল্যান্ড এর কনকনে ঠাণ্ডায় সর্দি কাশি থেকে বাঁচতে  কিছু কফ সিরাপ কিনে নিয়ে শহর ছাড়তে অপরাহ্ন হয়ে গেল। ৩১-নং জাতীয় সড়ক ধরে শালুগারা হয়ে সেভক বাঘপুল পার করে মংপং হয়ে ডুয়ার্স এ ঢোকা। বাগরাকোট পার হয়ে ওদলাবাড়ী তে দ্বিপ্রাহরিক ভোজন সমাধা করে ডামডিম থেকে গরুবাথান এর রাস্তা ধরা হল।

Tiger Viaduct


এর পর পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে বাঁকে দোল খেতে খেতে ও দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আমরা নির্বিঘ্নে লাভা পৌঁছে যাই। লাভা থেকে আলগড়া যাবার পথে কিছুদূরে লোলেগাঁও গমনকারী পথ  বিভক্ত হয়েছে। আমাদের গাড়ির চালক সেটি - প্রথম বার লক্ষ্য না করায় আমরা ভুল দিকে চলে যাই - একটু পরেই অবশ্য সেটি  স্থানীয় লোকেদের প্রশ্ন করে তা সংশোধন করে নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে পাহাড়ে ঝুপ করে সন্ধ্যে নামে - ঘুরঘুট্টি অন্ধকারে আর ঘন জুঙ্গলে শুক্লপক্ষের চাঁদ ও দেখা যাচ্ছিল না। সতর্ক ভাবে গাড়ি চালিয়ে এবং পথনির্দেশ অনুসরণ করে আমরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ গন্তব্যে উপনীত হই। হোটেল এ গিয়ে চান টান করে - রুটি তরকা খেয়ে - সামান্য কফ সিরাপ সেবন করে ঘুমিয়ে পড়ি।

*Post A Comment#Share#Link*






Browse Back
My Journal
Links
November 2016
SiteMeter
Page Summary